তাহিরপুর প্রতিনিধি | ০৮ মার্চ, ২০২০
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সম্প্রতি অফিস টাইম ছাড়া ৩শত টাকা ভিজিট নিয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখেন ডা. নিলুফা ইয়াসমিন। শনিবার (৭ মার্চ) স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তদন্ত করতে ২সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, ওই ঘটনায় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আশরাফুল হককে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। পরে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস পূর্বে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. নিলুফা ইয়াসমিন। উনার সাথে কয়েকজন ডাক্তার যোগদান করলেও বদলী হয়ে চলে যান অনত্র। কিন্তু হাওরবাসীর কথা চিন্তা ও নতুন যোগদান তাই অনেক কিছুই ভেবে তিনি থেকে যান তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
এরপর তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত নতুন ভবনের নিচ তলায় একটি রুমে রোগী দেখার জন্য বসেন। সেখানেই তিনি প্রতিদিন আগত রোগী দেখেন সরকারী নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু তিনি অফিস টাইম ছাড়া দুপুর ২টার পর প্রাইভেট রোগীর ভিজিট ৩শত টাকা নিয়ে রোগী দেখেন এমন একটি ছোট পোষ্টার চেম্বারেই রেখেছেন ‘ডা. নিলুফা ইয়াসমিন। সেখানে লিখা আছে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোনো প্রাইভেট রোগী দেখা হয় না।
বিষয়টি তিনি স্বাভাবিক ভাবেই নিলেও স্থানীয়দের কেউ বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি। ফলে গত বৃহস্পতিবার একটি ঘটনা চক্রে উঠে আসে এই ভিজিটের সাইন বোর্ডের বিষয়টি। এরপরেই আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে হয় সংবাদ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এতদিন পরে একজন গাইনী ডাক্তার আসল তিনি ভালই ছিলেন। মহিলা রোগীরা ভাল চিকিৎসা পেত যা একজন পুরুষ ডাক্তারের কাছে পাওয়া যায় না। কিন্তু রোগী দেখার ভিজিট অনেকটাই বেশী।
এ ব্যাপারে ডা. নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, আমার কাছে আগত রোগীদের কাছ থেকে কোন ফি বা ভিজিট নেইনি। আর হাসপাতালে বসেতো কোনো রোগীর কাছ থেকে কোনো প্রকার ফি নেইনি। আমি চেয়েছিলাম এখানকার স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসা সেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিভ্রান্ত করছে। যা আমি আশা করিনি। ভিজিট ৩শত টাকা লিখেছি কেউ তো আর দেয়নি। এই এলাকার মানুষ গরীব, তাই বিনা পয়সায় রোগী দেখি। সাইন বোর্ডটা নাম মাত্র।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে কোনো প্রাইভেট রোগী দেখে ফি নেওয়া হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়ে ডা. নিলুফাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।