কুলাউড়া প্রতিনিধি | ১০ মার্চ, ২০২০
সম্প্রতি মাদক মামলায় প্রায় ৫ মাস জেল খেটে বাড়ি ফিরেন উজ্জ্বল মিয়া (২৭)। কিন্তু তারপরও নিজেকে শোধরাতে পারেননি। নেশা যেন তার পিছু ছাড়ছে না। একাধিক মাদক মামলায় জেলে থাকার পরও ফের একই অপরাধে তাকে যেতে হয়েছে জেলহাজতে। সোমবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অসীম চন্দ্র বণিক।
মাদকাসক্ত উজ্জ্বল মিয়া মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, উপজেলার উজ্জ্বল মিয়া দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় প্রকাশ্য মদ্যপান করে মাতলামি করে আসছিলেন। উজ্জ্বলের কারণে জুড়ীর কামিনীগঞ্জ বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের থাকতে হয় আতঙ্কের মধ্যে। মাদকের টাকার জন্য সে ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে অস্ত্র দেখিয়ে (ছুরি) চাঁদাদাবি ও মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। যার কারণে একাধিক মাদক মামলা ও অন্যান্য মামলায় তাকে যেতে হয়েছে জেলহাজতে। এছাড়া তার ভয়ে স্থানীয় স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরও থাকতে হয় আতঙ্কে। সম্প্রতি ৫ মাস কারাবরণ করে আবারো মদ্যপান করে মাতলামি করতে থাকেন। ৯ মার্চ সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির সভায় তাঁর অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে উপজেলায় কেউ প্রকাশ্য মদ্যপান করলে আইনী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে উপজেলার কামিনীগঞ্জ বাজার এলাকায় থানা পুলিশ নিয়ে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক। সেখানে তাকে মদ্যপ অবস্থায় হাতেনাতে পেয়ে আটক করে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ, কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও কামিনীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীর সামনে উজ্জ্বল মিয়া উৎশৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকে যারা তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন তাদের সে জেল থেকে বের হয়ে দেখে নেবেন।
পরে ইউএনও অসীম চন্দ্র বণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম সরদার, তদন্ত (ওসি) আমিনুল ইসলাম, জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম রেজা, কামিনীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম সরদার বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ইং এর ৩৬ (৫) ধারায় তার বিরুদ্ধে এই সাজা ও জরিমানা আদায় করা হয়। মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক নির্মূলে যা যা করার দরকার তা করা হবে।