নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ মার্চ, ২০২০
সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ে সিটি মেয়রের বাধা দেওয়ার প্রেক্ষিতে সড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সড়ক অবরোধকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
বুধবার (১১ মার্চ) চৌহাট্টা পয়েন্টে দুই দফায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। সকালে প্রথমদফায় ও পরে দুপুর ১টার দিকে দ্বিতীয় দফায় তারা সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা অবরোধ তুলে নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চৌহাট্টায় সিভিল সার্জনের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি ভাংচুর করেছেন মেয়র এবং শ্রমিকদের মারধর করেছেন। অপরদিকে, সিটি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে গেলে সিটি করপোপরেশনের কর্মচারীদের উপর হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। এনিয়ে বাকবিতন্ডার পর সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে চৌহাট্টায় এলাকায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা ছিলো। ওইসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় অবৈধ পার্কিং দেখে মেয়র গাড়ি সরিয়ে নিতে বলেন। এসময় মেয়রের সাথে থাকে তার নিরাপত্তারক্ষীরা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের রশিদ কাটার জন্য রাখা টেবিল সরিয়ে নিতে যায়। এনিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায় মেয়র উত্তেজিত হয়ে এক শ্রমিককে ধাক্কা দিলে শ্রমিকরা বিক্ষোব্দ হয়ে সড়ক অবরোধ করে।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, আজ সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ করেই সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কয়েকজন লোক নিয়ে এসে স্ট্যান্ডে থাকা গাড়িগুলো ভাঙচুর শুরু করেন এবং সাহেল নামের এক শ্রমিককে মারধর করেন। পরে শ্রমিকরা প্রতিহত করতে এগিয়ে এলে তিনি চলে যান।
এ ঘটনার পরপরই সকাল সাড়ে ১১টায় চৌহাট্টা এলাকায় সিভিল সার্জন অফিসের সামনে রাস্তায় গাড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। তারা প্রায় ১৫ মিনিট সড়ক অবরোধ করে রাখলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সাথে কথা বললে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা। এরপর দুপুর ১টার দিকে আবার সড়ক অবরোধ করে মেয়রের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন শ্রমিকরা।
এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপআত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিয়া জানান, মেয়রের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের ঝামেলার প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আবারও ১টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে আবারও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং তাদের সান্ত্বনা দিয়ে স্ট্যান্ডের কার্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
যেহেতু এটি ব্যস্ততম একটি সড়ক তাই এখানে গাড়ি পার্কিং করার কোন সুযোগ নেই বলেও জানান ওসি।