জুড়ী প্রতিনিধি | ১২ মার্চ, ২০২০
দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে মৌলভীবাজারের জুড়ী নদী খনন কাজ শুরু হয়েছে। খননের আগে চলছে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ। অনেক দলখদার স্ব উদ্যোগেও সরিয়ে নিচ্ছেন নদী দখল করে নির্মিত নিজেদের স্থাপনা।
ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা জুড়ী নদী মৌলভীবাজারের জুড়ী বাজার হয়ে হাকালুকি হাওরে মিশেছে জুড়ী নদী। দীর্ঘদিন থেকে খনন না হওয়ায় প্রায় ভরাট হয়েছে এ নদী। এছাড়া নদীর চারপাশে বিল্ডিং, ঘরবাড়ি, দোকানপাট তৈরী করে দখল করে আছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় হাওর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ দীর্ঘদিন থেকে এ নদী খননের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা সামসুজ্জামান রানু মহালদার তার দখলকৃত অফিস, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বৈশাখী রেস্টুরেন্ট, সিটি ডায়গনস্টিক সেন্টারের কিছু অংশ মাহমুদ আলী শপিং সেন্টারের কিছু অংশ সহ দখলকৃত নদীর জায়গায় নির্মিত বিল্ডিং মালিকরা সেচ্ছায় ভেঙ্গে দিয়েছেন। তবে এখনও কিছু স্থানে অবৈধ দখলদাররা বহাল রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৬৪ জেলায় ছোট নদী খাল ও জলাশয় পুনঃ খনন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় জুড়ী নদী শাখার ৮.৭ কিলো মিটার পুনঃ খননের কাজ শুরু করার কিছুদিন পর বৃষ্টি হলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি আবার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ প্রকল্পের দুই পর্যায়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কাজটি সম্পন্ন করার কথা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বিধান দাস বলেন, কম লোকবল দিয়ে ধীর গতিতে কাজ হচ্ছে। তাছাড়া জনবহুল বাজার এলাকায় প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা উচিত ছিল। তা না করায় ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান পারভেজ জানান, আমি ঠিকাদার কে বলে দিয়েছি নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কাজটি সম্পন্ন করতে। স্থানীয়রা তাদের দখলকৃত স্থাপনা ভেঙ্গে দিতে দেরি হওয়ায় বিলম্ব হয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কাজটি সম্পন্ন হবে।