মাধবপুর প্রতিনিধি | ১৪ মার্চ, ২০২০
মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে আপন ভাইদের সাথে প্রতারণা করে ৭ তলা ভবন থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকার চেক দিয়ে প্রতারণা করেছে এক ব্যবসায়ী। এ ব্যাপারে বিক্ষুব্ধ তিন ভাইয়ের পক্ষে ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির ৫০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি দুদক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, মাধবপুর শহরের মুন্সী ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী জয়পুর গ্রামের আব্দুল আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল হাসিম তার আপন ৪ ভাই বর্তমান ইউপি মেম্বার আব্দুল কাদির, আব্দুল হাই, আব্দুল মান্নান ও আব্দুল হান্নানের কাছ থেকে আমানত হিসাবে ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। মাছ, গাছ, ধান, স্বর্ণ ও জমি বিক্রি এবং বন্দক রেখে এই টাকা তার কাছে জমা দেন ভাইয়েরা। পরে ভাইয়েরা আব্দুল হাসিমের কাছে তাদের আমানতের টাকা ফেরত চাইলে তিনি ৫০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন।
কিন্তু ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির চেকটি তার ব্যাংক হিসাবে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার হয়। পরে উকিল নোটিশ প্রদান করলেও আব্দুল হাসিম তাতে কোন কর্ণপাত করেননি। পরে নিরুপায় হয়ে আব্দুল কাদির গত ২ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তারের আদালতকে এন আই এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি গত ৫ মার্চ দুদক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।
এ দিকে আব্দুল হাসিম চেক দিয়েই শুধু প্রতারণা করেননি। এর আগে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মাধবপুর পৌর এলাকার ৭ তলা ভবন মুন্সী টাওয়ারকে মর্গেজ দিয়ে এবি ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকার সি সি লোন গ্রহণ করেন আব্দুল হাসিম। ৪ ভাইয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিলেও তিনি নিজের একাউন্টেই সকল টাকা নেন এবং ব্যবসায়িক কাজে বিনিয়োগ করেন।
ঋণ গ্রহণের পর আব্দুল হাসিম এবি ব্যাংক মাধবপুর শাখার ব্যবস্থাপকের 'যোগসাজশে' মুন্সি টাওয়ারের উত্তরাংশের মালিক আব্দুল কাদির মেম্বারের কাছ থেকে কৌশলে কাগজ করে নেন। মালিকানা কেড়ে নেয়ার সময় আব্দুল কাদির মেম্বার ও অপর তিন ভাইকে তখনকার এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এবং আব্দুল হাসিম চৌমুহনীতে অবস্থিত মুন্সী মার্কেটের যায়গা সি সি লোন থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার প্রদান করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তিনি এই ভূমিও মুক্ত করে দিতে অস্বীকার করেন।
৪ কোটি টাকা সিসি লোন গ্রহণকালে ব্যাংকের ডকুমেন্টারিতে অনেক জটিলতা রয়েছে এবং আব্দুল কাদির মেম্বারের উপ-স্বত্ব জোর করে ভোগ দখল করে আসছেন আব্দুল হাসিম।
এ ব্যাপারে আব্দুল কাদির মেম্বার জানান, সরল বিশ্বাসে আপন ভাই এর সাথে লেনদেন করে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। আমি দুঃশ্চিন্তায় স্ট্রোক করেছি। আমাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করায় এবং কোন ধরনের উপ-স্বত্ব না পেয়ে নিরুপায় ও বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে আমার অংশ তাকে লিখে দিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু এরপরও সে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। আমাদেরকে সে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকিও দিচ্ছে। আমি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল হাসিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, এখনও তিনি লিখিত অভিযোগ দেখেননি।