নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ মার্চ, ২০২০
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে সন্দেহভাজন কেউ যদি কোয়ারেন্টাইনে যেতে না চান তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে কোনো চিকিৎসক যদি এমন চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তাহলে তারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান।
শনিবার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন এন্ড মিডওয়াইফারি সিলেট শাখার নিবেদনে সিলেট আওয়ামী লীগের মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক সর্তক। তাই তিনি মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানও স্বল্প পরিসরে নিয়ে এসেছেন। কেউ যদি কোয়ারেন্টাইনে যেতে না চান বা কোনো ডাক্তার যদি চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তি হিসেবে তিন মাসের জেল, বা অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, যেমন সিভিল সার্জন, ডাক্তারদের কোনো কাজে যদি কেউ বাধা দেন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, অথবা কেউ যদি তাদের নির্দেশ না মানেন, তাহলে সেটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের বিদেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদেরকে আপাতত বাংলাদেশ না আসার জন্য অনুরোধ করেন। যদি কেউ বিদেশ থেকে ফিরে এসে থাকেন তবে তিনি যেন অবশ্যই তার নিজ গৃহে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সৎকারের বিষয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ যদি মারা যান তাহলে তার সৎকারের ব্যাপারেও নির্দেশনা এসেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যেমন সিভিল সার্জন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নির্দেশনা মোতাবেক তার পরিবারের সদস্যর উপস্থিতিতে দাফন বা শবদাহ করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ব্যবস্থা করা ও প্রয়োজনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতাল স্থাপন করার নির্দেশনা রয়েছে আমাদের। এই ভাইরাস প্রতিরোধে আমরা বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করেছি। ইতোমধ্যে সিলেট শহীদ শামছুদ্দিন মেডিকেল হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষজন যেন আতঙ্কিত না হন সেজন্য আমাদেরকে মানুষের আতঙ্ক দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। কথা বলা বা কাজ করার সময় পরস্পর থেকে একটু নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন। হাত ধোয়ার অভ্যাস বৃদ্ধি করতে হবে। মসজিদ, মন্দির প্যাগোডা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, টিভি, স্থানীয় পত্রিকা, সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ মাধ্যমে ব্যবহার করে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। বাংলাদেশী নাগরিকদের বিদেশে ভ্রমণ এই মুহূর্তে নিরুৎসাহিত করতে হবে তেমনি বিদেশী নাগরিকদের কেউ বাংলাদেশের ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে হবে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাপারে সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সামাজিক সম্মান রক্ষা করা যেমন আমাদের দায়িত্ব। তেমনি যারা এই রোগীদের সেবা করবেন সেই ডাক্তার ও নার্সদের নিরাপত্তা দেওয়া, সুরক্ষা করাও আমার দায়িত্ব। তাই ডাক্তার ও নার্সদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ উপকরণ, সরঞ্জামাদি সরবরাহ আছে। ঢাকা থেকে আরও উপকরণ আসছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যাপারে তার স্বজন, সেবাদানকারী, মিডিয়াসহ সকলকে সচেতন হতে হবে।