নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
শনিবার সকাল ১১ টা। এমনিতে শনিবারে ওসমানী হাসপাতালে মানুষে গিজগিজ করে। রোগী, রোগীর স্বজন, হাসপাতাল স্টাফ, শিক্ষার্থী- আরো কত লোক! তবে আজ সকালে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ফাঁকা ওসমানী হাসপাতাল। বর্হিবিভাগ বন্ধ থাকায় বাইরে রোগীদের ভিড় নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতেও রোগীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
৯০০ শয্যার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমনিতে প্রতিদিন ১৭শ' থেকে ১৮ শ' রোগী ভর্তি থাকেন। এছাড়া বর্হিবিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী। তবে ঈদের দিন থেকে রোগীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ১ হাজার থেকে ১২শ' রোগী হাসপাতাটি ভর্তি রয়েছেন। আর বর্হিবিভাগ বন্ধ থাকবে আজ পর্যন্ত।
শনিবার সকালে ওসমানী হাসপাতালের ৩য় তলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, এমনিতে এই ওয়ার্ডে রোগীদের তিল ধারণের জায়গা থকে না। ওয়ার্ডের বিছানা মেঝে উপচে বারান্দার মেঝেতেও জায়গা নিতে হয় ভর্তি হওয়া রোগীদের। তবে আজ বারান্দা পুরোটাই ফাঁকা। ওয়ার্ড কক্ষের মেঝেতেও রোগীদের গিজিগিজি নেই।
এদিকে যেসব রোগীরা হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তাদের অভিযোগ ঈদের দিন থেক প্রয়োজনমাফিক চিকিৎসক-নার্সদের পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তো দেখাই নেই। ফলে গুরুতর আহত রোগীরা দূর্ভোগে পড়েছেন।
শিশু ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন আবুল কাশেম বলেন, ঈদের দিন থেকে চিকিৎসক ও সেবিকার সঙ্কট রয়েছে। শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদেরও প্রয়োজনমত পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতেও পর্যাপ্ত পরিমান চিকিৎসকসহ স্টাফ দায়িত্বরত আছেন।
ওসমানী হাসপাতালের উপ পরচালক ডা. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতেও ৫০ জন চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। তারা তিনটি টিমে ভাগ হয়ে ৮ ঘন্টা করে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ছুটিতে থাকলেও প্রয়োজন বোধ করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তারা জরুরী তলব করতে পারবেন।
ঈদের আগে হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্টাফদের নিয়ে বৈঠক করে এই দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পরিবারের সাথে ঈদ কাটাতে অনেকে রোগীই রিলিজ নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। কেবল গুরুতর আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ।