Sylhet Today 24 PRINT

নবীগঞ্জে ৬২ বিঘায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ |  ২৪ মার্চ, ২০২০

নজরকাড়া সৌন্দর্য, সেই সাথে তেল হিসেবেও ব্যবহার রয়েছে। বলছি সূর্যমুখীর কথা। নবীগঞ্জ উপজেলা প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন এক কৃষক। আর এইসব মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহে চোখ জুড়াতে আসছেন দর্শনার্থীরা।

কৃষি অধিদপ্তর বলছে, কম সময় আর স্বল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় বেশ খুশি কৃষকও। দিন দিন এ অঞ্চলে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার মান্দারকান্দি গ্রামের পার্থ সারথি ঘোষ বাড়ির পাশের ৬২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। পার্থ সারথি ঘোষের সফলতা দেখে অন্যান্য চাষীরাও এবার সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে পার্থ সারথি ঘোষ বলেন, সূর্যমুখী ফুলের চাষে বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। কর্তন করতে কিছু টাকা খরচ হবে। পুরো ফসলে সামান্য রাসায়নিক সার আর দুইবার সেচ দিতে হয়। কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ফসলে সফলতা পেয়েছি। আগামীতে আরও ১০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের পরিকল্পনা আছে।

এদিকে প্রতিদিন আশপাশের এলাকা থেকে সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে আসছে। অনেকেই ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন এবং সৌন্দর্যে ভরপুর সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখে আনন্দিত দর্শনার্থীরা।

তারা বলেন, চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরূপ দৃশ্য। সূর্যমুখীর নজরকাড়া সৌন্দর্য পুলকিত করে যে কাউকেই।

ওই অঞ্চলের ব্লকে দায়িত্বরত নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী অলক কুমার চন্দ্র বলেন, আগে ওই জমিতে বছরে একবার ধানের ফসল হতো। তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করার জন্য এবারই প্রথম সূর্যমুখী ফুলের চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। কারণ সয়াবিনের চেয়ে সূর্যমুখীর তেল বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন। আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ায় এ ফুলের চাহিদা বেড়েই চলেছে। অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচ আর অধিক লাভ হওয়ায় নবীগঞ্জের কৃষকরা সূর্যমুখীর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যেখানে বছরে একবার ধান ফসল হতো সেখানে এবার সূর্যমুখী ফুলের বীজ বপন করার পর ১শ থেকে ১শ ১০ দিনে ফুল তোলা যায় বলেও জানান অলক কুমার চন্দ্র।

নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.কে.এম মাকসুদুল আলম বলেন, এ বছর সূর্যমুখী ফুলের চাষীদের রাজস্ব প্রকল্প থেকে ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ফসল করতে বীজসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এটা আমাদের কৃষিবান্ধব সরকারের একটা বিশেষ অর্জন এবং মুজিববর্ষে সফল ফসল হয়েছে। এই সূর্যমুখী ফুলের বাগানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন, তারা ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার করছেন। এ ছাড়া কৃষি অফিসের উপ-সহকারী অলক কুমার চন্দ্র এখানে সার্বক্ষণিক থেকে সহযোগিতা করে চাষীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এখন অনেকেই যোগাযোগ করছেন বীজ নেয়ার জন্য।

আগামীতে সরিষা ও সূর্যমুখীর চাষ বাড়বে বলেও আশাবাদী তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের আরো সার্বিক সহযোগিতা ও সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করে তুললে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে চাষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক তমিজ উদ্দিন খান বলেন, নবীগঞ্জে এই প্রথম এক সাথে ৬২ বিঘা সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। এখন এই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে ফুলে ফুলে সজ্জিত এই নবীগঞ্জের মাঠ। এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রতি শ্রেণিপেশার লোকজন। সূর্যমুখী ফুলের এই সফল ফসলের ফলে বাংলার কৃষিতে নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি করা হয়। দেশের চাষকৃত সূর্যমুখীর মাধ্যমে তেলে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। এই তেল অনেক পুষ্টিকর এবং অন্য তেলের চেয়ে অনেক ভালো। হবিগঞ্জ জেলায় ৫২০ বিঘা জমিতে শতাধিক কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। চাষ করতেও অনেক কম সময় লাগে। এ বছর আড়াই কোটি টাকার তেল বিক্রি করা হবে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.