নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ অক্টোবর, ২০১৫
শংকরের কথা মনে আছে? শংকর সিলেটের সংবাদপত্র হকার ছিলেন। তবে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ'র ছেলেবেলার বন্ধু হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত। সেই শংকরের ছেলে রণি দাস (১৩) আজ সকাল থেকে নিঁখোজ।
আজ সকাল ৮ টায় দক্ষিণ সুরমার পৈতপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে শিববাড়ি বাজার বাজার করতে আসে রণি। এরপর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে বলৈ জানিয়েছেন শংকরের বড় ছেলে সংকু দাস। নিখোঁজ রণি প্রতিবন্ধি ছিলো বলে জানান সংকু।
শংকর অবশ্য মারা গেছেন ২০০৪ সালে। দুই ছেলে আর দুই মেয়ে রেখে গেছেন। এরমধ্যে রণি সবার ছোট।
শংকর ছিলেন হুমায়ুন আহমেদের ছেলেবেলার সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধু। হুমায়ূন তাঁর ‘আমার ছেলেবেলা’ গ্রন্থে শংকর দাসের স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন- ‘ক্লাসে শংকর ছাড়া আমার আর কোন বন্ধু জুটলো না। সে আমার সংগে ছায়ার মতো লেগে রইলো। আমি যেখানেই যাই সে আমার সঙ্গে আছে। মারামারিতে সে আমার মত দক্ষ নয়, তবে মারামারির সময় দাঁত মুখ খিচিয়ে আঁ আঁ ধরনের গরিলার মতো শব্দ করে প্রতিপক্ষের দিকে ছুটে যেত। এতেই অনেকের পিলে চমকে যেত। শংকরকে নিয়ে শিশু মহলে আমি বেশ ত্রাসের সঞ্চার করে ফেলি।’
ছেলেবেলায় শংকর দাস অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের সদস্য থাকলেও তাঁর শেষ জীবন কেটেছে দারিদ্রতার সাথে। জীবিকা নির্বাহের জন্য সংবাদপত্র হকারের কাজ নিয়েছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে হঠ্যাৎ একদিন নিখোঁজ হয়ে পড়েন শংকর। কয়েদিন পর বাড়ির কাছের ডোবায় পাওয়া যায় তার লাশ।
আজ নিঁখোজ হলো শংকরের ছেলে রণি। শংকরের বড় ছেলে সংকু দাস জানান, প্রতিবন্ধি ভাই নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে নগরীর মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। রণির গায়ের রং শ্যামলা ও পায়ের পাতা বাঁকানাে। হারিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর পরণে জিন্সের প্যান্ট, চেক শার্ট ও পায়ে রাবারের বার্মিজ জুতো ছিলো বলে জানান সংকু।