তাহিরপুর প্রতিনিধি | ১৩ এপ্রিল, ২০২০
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন এলাকা লকডাউন ঘোষণা করছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে ও জনগণের সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যৌথভাবে কাজ করছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ডা. হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেকে আড়াল না করে দিন-রাত নিয়মিত তার কাছে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা। বাদাঘাট বাজারের মসজিদ সংলগ্ন ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিজ চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তার কাছে আগত রোগীদের করোনাভাইরাসের বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধিসহ নানান সচেতনতামূলক দিক-নির্দেশনা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এলাকার সচেতনমহল সন্তোষ প্রকাশ করে ডা. হাফিজ উদ্দিন আহমদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এই অবস্থায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক নানা অজুহাতে চেম্বার ছেড়ে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন। অনেকেই আবার চিকিৎসা সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। কিন্তু ডা. হাফিজ উদ্দিন আহমদ অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পরও এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজ চেম্বারে চিকিৎসা সেবা দেয়া অব্যাহত রেখেছেন।
হারিছ মিয়া, রহিম উদ্দিনসহ বাদাঘাট বাজারে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন জানান, এই সংকটময় মুহূর্তে বিশেষজ্ঞ অনেক ডাক্তার যারা অতীতে শহর থেকে এসে বাদাঘাট বাজারের বিভিন্ন ফার্মেসি বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা দিতেন তাদের অধিকাংশই চিকিৎসা সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিলেও ব্যতিক্রম ডা. হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি আমাদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ডা. হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, দেশের কঠিন মুহূর্তে নিজেকে আড়াল করা একজন চিকিৎসকের জন্য স্বার্থপরতা ছাড়া আর কিছুই না। এই চিকিৎসক হলাম কার জন্য? যাদের জন্য চিকিৎসক হলাম তারাই যদি এখন চিকিৎসা না পায় তাহলে কি লাভ? মানবসেবাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ধর্ম। এই পেশায় আসার প্রধান কারণই হলো মানবসেবা করা। মানুষ যাতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য সংকটময় সময়েও দায়িত্ব পালন করছি।
সাধ্যমত গরীব ও অসহায় অনেক রোগীদের বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা তিনি দেন বলে জানান।
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া