Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে পেনশনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা

সাধারণ ছুটিতে বন্ধ সঞ্চয় অধিদপ্তরের কার্যালয়

দেবকল্যাণ ধর বাপন  |  ১৫ এপ্রিল, ২০২০

সিলেটে পেনশনার ও পরিবার সঞ্চয়পত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের গ্রাহকরা। মেয়াদপূর্তি হওয়ার পরও সঞ্চয়পত্র নগদায়ন ও মাসিক মুনাফার অর্থ তুলতে পারছেন না তারা। গ্রাহকেরা মুনাফার টাকা তুলতে পারবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এমন কথা বলা হলেও সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা ব্যাংকে গিয়ে ফিরে আসছেন। এ কারণে করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে অর্থ কষ্টে ভুগছেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারে পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর বন্ধ রয়েছে। এ কারণে গ্রাহকরা তাদের মুনাফার টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। তবে অধিদপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, যাতে সপ্তাহে এক দিন হলেও অফিস খোলা রাখা যায় এমন ব্যবস্থা করার জন্য।

এদিকে এই দুর্যোগকালীন সময়ে অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা। তারা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সকল জরুরিসেবা খোলা রাখার পরও জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোর মতো একটি জরুরিসেবা বন্ধ রাখায় তারা বিপাকে পড়েছেন। গ্রাহকরা জানান, মাসের অর্ধেক হয়ে গেলেও অনেকে বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু ঘরের মাসের বাজার পর্যন্তও এখনো তারা করতে পারেননি। তাই তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন।

সোমবার সরেজমিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখা গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন বয়স্ক নাগরিক ভিড় করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরের জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিসটি বন্ধ থাকায় তারা ফিরছেন খালি হাতে। এসময় অনেকের চোখে মুখে হতাশার ছাপও লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথেও কথা বলতে দেখা যায়।

এ সময় কথা হয়, সরকারি চাকরি থেকে চার বছর আগে অবসরে যাওয়া এক সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি অবসরে যাবার পর যে টাকা পেয়েছিলাম, সে টাকা দিয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনে রাখি। যার মুনাফার টাকা উত্তোলন করে পরিবার-পরিজন নিয়ে নগরীতে বসবাস করি। তবে চলতি মাসের অর্ধেক পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমি সেই টাকা তুলতে পারিনি।

এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে হাতে টাকা না থাকায় নিজেকে অসহায় লাগছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মাস শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তিনবার আমি ব্যাংকে গিয়েও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। তাই এখন পর্যন্ত বাড়ি ভাড়ার টাকাও দেয়া হয়নি। এমনকি ঘরে থাকা খাবারও শেষ হবার পথে। এমন অবস্থায় তিনি জরুরি ভিত্তিতে সরকারকে এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখার উপ পরিচালক (গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ) শাহ মো. আশরাফ সিদ্দিকী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালনা করছে। তবে এ ব্যাংকের অভ্যন্তরস্থ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিসটি বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের এ সমস্যাটি হচ্ছে। আমরা এর পক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। তবে অধিদপ্তরের সাথে আমরা কথা বলেছি, আশা করছি অতি দ্রুতই একটি সমাধানে আসবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।

এদিকে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমা আকতার মঙ্গলবার রাতে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমরাও এ ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পেরে কিছুক্ষণ আগে অধিদপ্তরের সাথে কথা বলেছি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও অফিস খোলা রাখা হবে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে হলেও অধিদপ্তরের কয়েকজনকে অফিস করতে হবে।

তিনি গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে আরও একদিন ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামীকাল (বুধবার) আমরা অর্ডারের কপি হাতে পাবো। তবে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ে হয়েছে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার আমরা অফিস করবো এবং গ্রাহকেরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের মুনাফার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.