সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ মে, ২০২০
১৩৪ তম মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক সুশান্ত সিনহা সুমনের সভাপতিত্বে এবং মহিতোষ দেবের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা প্রণব সিংহ, সাজিদুর রহমান সাইদুল, মুকুল মাহমুদ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের শ্রমিকরা জীবন দিয়ে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিল। আমাদের দেশও স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৯ বছর আগে। সেই স্বাধীনতা সংগ্রামে এদেশের শ্রমজীবী মানুষ জীবন দিয়েছিল স্বাধীনাতার জন্য। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী যে সরকারই ক্ষমতায় গিয়েছে তারাই শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থের বিপরীতে রাষ্ট্রকে পরিচালনা করেছে। যার নগ্ন রুপ দেখা যাচ্ছে বর্তমান দুর্যোগকালীন করোনা পরিস্থিতিতে। সরকার মার্চ মাসের ২৬ তারিখ থেকে সারা দেশে লকডাউন ঘোষনা করেছে। অথচ শ্রমিকদের খাদ্যর নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করেনি। তাই শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে করোনায় মৃত্যুর আগের ক্ষুধায় মারা যাওয়ার শঙ্কা। রাষ্ট্র একদিকে লকডাউন মানার জন্য সবাইকে বলছে অপরদিকে বাগান খোলা রাখার জন্য শ্রমিকদের বাধ্য করছে। এ যেন একদেশে দুই আইন। অপরদিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় খাত গার্মেন্টস শিল্প, সেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে মালিক যেন মুনাফার খেলায় মেতে উঠেছে। এই রকম একটা দুর্যোগ কালীন সময়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ৪০% কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বাহিরেও পরিবহন, হকার, রিক্সা, নির্মাণ, দিনমজুর সহ সকল শ্রমিক আজ খাদ্য সংকটে অসহায় হয়ে পড়েছে। যে শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে সভ্যতার চাকা ঘুরে অথচ এই ভয়াবহ সংকটে রাষ্ট্র তাদের পাশে দাড়ায় না। তাই অবিলম্বে শ্রমিকদের দাবিসমূহ আদায়ে শ্রমিকদেরকেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়।
দাবিগুলো হলো-
১. আগামী ৩ মাস সব সেক্টরেন শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
২. করোনা পরিস্থিতে লে-অফ, শ্রমিক ছাটায় চলবে না।
৩. গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৪০% বেতন কর্তন চলবে না।
৪. করোনাকালীন সময়ে সবেতনে চা বাগান ছুটি ঘোষণা কর।
৫. শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত কর।