জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর | ০১ মে, ২০২০
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এখনও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। ঋণ মেটাতে অনেক কৃষকই স্বল্প দামে ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, যখন যখন সরকারের ধান চাল সংগ্রহ হবে তখন প্রান্তিক কিংবা ক্ষুদ্র কৃষকের ঘরে আর ধান থাকবে না। আর এ সুযোগে খাদ্য গুদামে ধান দিবে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। ফলে অন্যান্য বছরের মত এ বছরও লাভ করবে ফাড়িয়ারা।
বিজ্ঞাপন
কৃষকরা জানান, প্রতি বছরেই হাওরাঞ্চলের কৃষকরা বোরো ধান চাষাবাদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। এই পরিশোধের জন্য তাদের অল্প দামেই ধান বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জে এবার ২লাখ ১৯হাজার ৩০০হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। বর্তমানে স্থানীয় হাটে ধানের বাজার দর ৭শ’ থেকে ৭’শ ৫০ টাকা। আর যারা ধান কাটার আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তারা ধান বিক্রি করেছেন ৫শ টাকায়। ফলে কৃষক লাভের মুখ দেখছেন না।
গত রোববার থেকে সুনামগঞ্জের ১১উপজেলায় ধান ক্রয় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনও কৃষকদের তালিকাই করা হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল সরকারি ভাবে ধান চাল ক্রয় উদ্বোধন করা হয়েছে তাহিরপুর খাদ্য গুদামে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের কাছ থেকে ২০৭০মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। প্রতি কৃষক ধান দিতে পারবে ১ মেট্রিক টন। প্রতি মন ধানের সরকারি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১হাজার ৪০টাকা। বর্তমানে উপজেলা কৃষি অফিস প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের একটি তালিকা করছে। আগামী ১০ মে’র মধ্যে তালিকার কাজ শেষ হবে। সেই সাথে তালিকাকৃত কৃষকদের থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর পাড়ের উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক জাক্কার মিয়া জানান, চলতি বছর হাওরে ১০ কেদার জমিতে তিনি বোর ধান চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু হাতে টাকা না থাকায় তিনি ধান মাড়াইয়ের পূর্বেই ২০মন ৫শ টাকা ধরে বিক্রি করে দিয়েছেন এক ব্যবসায়ীর কাছে।
বিজ্ঞাপন
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আল-আমিন জানান, প্রতি বছরই তিনি ২থেকে ৩শ মন ধান পান কিন্তু কখনোই খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারেন নি। লটারিতে যাদের নাম আসে তাদের অধিকাংশের ঘরে খাদ্য গুদামে ধান দেয়ার মত ধান থাকে না, খাদ্য গুদামে তখন ধান দেয় ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা।
তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, ইচ্ছে করলেই আমরা এখন ধান নিতে পারি না। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ধান সংগ্রহ করা হবে। খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী ১২মে থেকে কৃষকরা সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারবেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা বলেন, প্রকৃত কৃষকরা যেন খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কৃষকদের তালিকার কাজ চলমান।
তাহিরপুর উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, কোন ভাবেই সরকারি ধান ক্রয়ে অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না। সে যত বড় ক্ষমতাশালী হউক। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকরাই খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করবে। অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।