Sylhet Today 24 PRINT

মন্ত্রণালয়ের ‘অসহযোগিতায়’ শাবিতে করোনা পরীক্ষা শুরুতে বিলম্ব

দেবকল্যাণ ধর বাপন |  ০৪ মে, ২০২০

গত ১২ এপ্রিল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (শাবি) কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে করনোভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ওইদিনই এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা শুরু করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলো শাবি কর্তৃপক্ষ। তবে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত পরীক্ষা শুরু করা যাচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের মধ্যে কেবল এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা হয়। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে পুরো বিভাগ থেকে আসা রোগীদের নমুনার চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় এই ল্যাব সংশ্লিষ্টদের। ওসমানীতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ নমুনা আসলেও পরীক্ষা হয় গড়ে ১৫০টি। তাই জমা পড়ে থাকে অনেকগুলো নমুনা। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার ফলাফল জানতে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয় রোগীদের। এ অবস্থায় সিলেটে দ্রুত আরও একাধিক ল্যাবে পরীক্ষা শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন



গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর ৭ এপ্রিল করোনা শনাক্তকরণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি)। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ শাবিপ্রবিতে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করলে মন্ত্রণালয় উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করোনা রোগী শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেয়। সে সময় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যাচাই করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করোনা রোগী শনাক্তকরণের ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু এরপর ২০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও শাবিপ্রবিতে শুরু হয়নি করোনা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, গতমাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিলো তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব পরিদর্শনে আসবেন। পরবর্তীতে আমাদের তরফ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও মন্ত্রণালয় থেকে পরিদর্শনের জন্য কোন টিম পাঠানো হয়নি। আমরা করোনা রোগী শনাক্তকরণে যাওয়ার আগে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে চাই। যার জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন অত্যাবশ্যক।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের বায়োসেফটির অবকাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রিয়েল-টাইম পিসিআর যন্ত্র ছিলো, আমরা আরও একটি সংযোজন করেছি। এমনকি আমাদের প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবলও প্রস্তুত রয়েছে করোনা রোগী শনাক্তকরণে যেতে। তবে মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সাড়া পাইনি। তাই আমরা প্রস্তুত থাকলেও করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কাজে যেতে পারছি না।

এদিকে গত চার-পাঁচ দিন আগে মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কতগুলো তথ্য জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলা হয়। সেই তথ্যগুলোও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয় বলে যোগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন



মন্ত্রণালয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয় হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম সরকারি ভাবে বেশ কিছু জিনিস পাবো, যা করোনা রোগী শনাক্তকরণে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে তেমন কিছুই দেয়া হয়নি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের অবকাঠামোগত অবস্থার কথা জানতে চাইলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল হক প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বিভাগে যে ল্যাবগুলো আছে সেখানে সাধারণত নন-প্যাথোজনিক স্যাম্পল নিয়ে রিসার্চ করা হয়। তবে প্যাথজনিক নমুনা পরীক্ষা করার জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন তা আমাদের ছিলো না। কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার জন্য যে সকল নিরাপদ ক্যাবিনেট প্রয়োজন তা আমাদের না থাকলেও আমরা এর সংস্কার কাজ চালাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বায়োসেফটি লেভেলকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যেখানে বায়োসেফটি লেভেল থ্রি (৩) দিয়ে করোনা টেস্ট নিরাপদ। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে লেভেল ২ নিশ্চিত করেই ল্যাবগুলো করোনা টেস্ট করে যাচ্ছে। আমরা সেই লেভেলটা নিশ্চিত করেই আগামী ১০ মে থেকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় যেতে পারবো বলে আশা করছি। এথনে প্রতিদিন ২০০ টেস্ট করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, শাবির ল্যাব পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায় থেকে আমাদের কাছে চিঠি এসেছে। মঙ্গলবার এই ল্যাব পরিদর্শন করা হবে। আশা করছি, ১০ তারিখের দিকে এখানে পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি অবগত নন জানান আনিসুর রহমান।

এই ল্যাব চালু হলে আমাদের জন্যই ভালো জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেটে একটি মাত্র পিসিআর ল্যাব ওসমানী মেডিকেল কলেজে। যা দিয়ে আমরা কুলিয়ে ওঠতে পারছি না। এতো পরিমাণে নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে যা একটি মাত্র ল্যাবে রাতদিন কাজ করেও চাপ সামলে ওঠা যাচ্ছে। যার কারণে বেশ কিছু নমুনা আমদের বাধ্য হয়েই ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.