নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ মে, ২০২০
সিলেট জেলায় সংসদীয় আসন ৬টি। ৬ আসনে সাংসদ আছেন ছয়জন। তবে বর্তমান দুর্যোগকালীন সময়ে নিজ এলাকায় আছেন মাত্র একজন সাংসদ। বাকী পাঁচজনের কেউই এলাকায় নেই। এদের বেশিরভাগই ঢাকায় অবস্থায় করছেন।
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই এলাকায় আছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী কয়েস। প্রতিদিনই নিজ সংসদীয় এলাকার সংকটে পড়া মানুষদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। নিজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও নামিয়েছেন মাঠে। দুর্যোগকালীন সময়ে এই সংসদ সদস্যের এমন উদ্যোগ প্রশংসা কুড়াচ্ছে সবার।
বিজ্ঞাপন
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩ আসন। এই আসনের টানা তিনবারের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। সরকারী ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠান ও নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও করোনাভাইরাস সঙ্কটে পড়া মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন তিনি। সিলেটের আরও একাধিক সাংসদ নিজের ব্যক্তিগত তরফ থেকে নেতাকর্মীদের দিয়ে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করলেও গত দেড়মাসে সিলেটে আসেননি তাদের কেউ।
তবে ২২ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগেই ঢাকা থেকে এলাকায় চলে আসেন মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী কয়েস। এখন পর্যন্ত তিনি এলাকাই রয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে এই সাংসদকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সাংসদ কয়েস নিজ এলাকার জনগণকে সচেতন করতে প্রচারাভিযান শুরু করেন। এসময় করনীয় নির্ধারণে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। লকডাউন ঘোষণার পর বিপাকে পড়া মানুষদের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন তিনি। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বর্তমান ধান কাটার মৌসুমে নিজ এলাকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধান কাটতে মাঠে নামিয়েছেন তিনি। নিজেও অংশ নিয়েছেন ধান কাটায়। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি ইফতারসামগ্রীও পৌঁছে দিচ্ছেন এই সাংসদ।
বিজ্ঞাপন
এ ব্যাপারে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন- যেভাবে ভোট চাইতে জনগণের দুয়ারে গিয়েছিলেন এখন সেভাবে খাবার নিয়ে জনগণের দুয়ারে যাচ্ছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ পালন করছি।
কয়েস বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি মাঠে নেমে কাজ করতে পারেন, আমরা জনপ্রতিনিধিরা কেন পারবো না? শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এখন সকল জনপ্রতিনিধিকে মানুষের পাশে থাকা উচিত। অসহায় মানুষদের সাধ্যমত সাহায্য করা উচিত। তিনি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন বলে জানান।
এই সাংসদ বলেন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমি দশম শ্রেণির ছাত্র আর তখনই স্কাউট সদস্য হিসেবে নোয়াখালীতে গিয়েছিলাম রিলিফ নিয়ে। সেই থেকে শুরু আর আজ পর্যন্ত সব দুর্যোগে রিলিফ কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই সরাসরি জড়িত থেকেছি।