বড়লেখা প্রতিনিধি | ১১ মে, ২০২০
করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় মঙ্গলবার ১২ মে থেকে বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজারের ফার্মেসি, মুদি দোকান ও জরুরী পণ্যের প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বড়লেখা পৌরসভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের বৈঠকে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যবসায়ী ও পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভার মেয়রের কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে জরুরী বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে পৌর মেয়র ছাড়াও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আলা উদ্দিন ডিলার, সাধারণ সম্পাদক ছাদ উদ্দিন, সহ সভাপতি সায়দুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ শৈলেন্দ্র চন্দ্র দেব নাথ, ব্যবসায়ী নেতা হারুনুর রশিদ বাদশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আগামীকাল মঙ্গলবার ১২ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ১৮ মে থেকে ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত পরিসরে দোকান খোলার সিদ্ধান্ত হয়।
বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ১৭ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বৈঠকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা প্রাধান্য দিয়ে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের অনেক ক্ষতি হবে। তবে সংকটকালে তারা জীবিকার চেয়ে জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ঈদকে সামনে রেখে ১০ মে থেকে দোকান-পাট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। বেশ কয়েকটি শর্ত মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের শপিং মলগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি বর্ধিতকরণ আদেশে এ অনুমতির কথা বলা হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সিলেট বিভাগীয় শহর, জেলা শহর মৌলভীবাজার ও পাশের উপজেলাগুলোতে দোকান বন্ধের পর বড়লেখা উপজেলায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।