শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ১২ মে, ২০২০
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্কুলের দরজা, জানালা, ইলেকট্রনিক তাঁর পুড়ে গেছে। স্কুলের ভবনটিও রং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতির রাখা ধানের খড়ের স্তূপ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা যায়।
সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ১১ টায় উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের আলীশারকুল এলাকার আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে সরজমিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা যায়, আগুনে পুড়া খড়গুলো ও খড়ের ছাই সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রামের কয়েকজন। মানুষজন দেখার আগেই তারা আগুনের পুড়া সব ছাই ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেন। স্কুলের দরজা ও জানালাগুলো আগুনে পুড়ে অর্ধেকাংশ কালো হয়ে গেছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজনের ধানের খড় সেখানে ছিলো বলে জানা গেছে।
আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিমা সরকার বলেন, গত কয়েক দিন আগে স্থানীয় এলাকাবাসী ধানের খড় স্কুলের বারান্দায় শুকানোর জন্য রাখেন। স্কুলের দপ্তরি তাদেরকে খড় রাখতে বেশ কবার বারণ করেছেন। তারা অনেকেই কথা শোনেনি। সবাই খড়গুলো সরিয়ে ফেললেও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি সুরু মিয়া তার খড়গুলো সরাননি।
স্কুলের দপ্তরি রুপন দেব বলেন, আমি রাতে বাড়িতে খাবার খাওয়ার জন্য যাওয়ার পরই খড়ে কারা যেন আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির ১ জন সদস্য বলেন, গ্রামের শাহবুদ্দিন মিয়া, আলাউদ্দিন মিয়াসহ অনেকেই করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হওয়ার স্কুলের বারান্দায় প্রায় প্রতিদিনই খড় রাখেন,ধান শুকানো খড় শুকানোসহ বিভিন্ন কাজে স্কুলের বারান্দা ব্যবহার করেন।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লেচু মিয়া বলেন, বৃষ্টির জন্য স্কুলের সহসভাপতি এবং গ্রামের কয়েকজন স্কুলের বারান্দায় ধানের খড় রেখেছিলেন। বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে স্কুলের সহসভাপতি সুরুত মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।