তাহিরপুর প্রতিনিধি | ১৩ মে, ২০২০
বাবারে কোন সময় টাকা দিব জানি না। সকালে আইছিলাম, এখনও টাকা পাই নি। তাই সকালে আইসা ব্যাংকের সামনে কখনও দাড়িয়ে, কখনও বসে আছি আর সময় পার করছি। টাকা দিলে বাড়ি যাবো। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কি করমু এত মানুষ, জায়গাও নাই। তাই গ্রামের আরও লোকজনের সাথে আমরা এক সাথে আছি।
বুধবার (১৩ মে) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লাকমা গ্রামের শতবর্ষী নারী তারা সোনালী ব্যাংকে বয়স্ক ভাতা নিতে আসলে এ কথাগুলো বলেন।
বিজ্ঞাপন
এতো দূর থেকে কীভাবে আসলেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল দিয়ে কষ্ট করে আসতে হয়েছে। খরচ হবে ৫ টাকা। আর ভাতার কত টাকা পাবো প্রতি মাসে ৫শ টাকা করে ৬ মাসে ৩ হাজার টাকা।
একই কথা বলেন একই ইউনিয়নের কলাগাঁওয়ের রাবেয়া খাতুন(১০০)। তিনি বলেন, সরকার টাকা দিলেও আমাদের কষ্ট করতে হয়। টাকা নিতে গিয়ে উপজেলা সদর সারাদিন ব্যাংকে অপেক্ষা করা লাগে টাকার জন্য। কখন টাকা দিবো জানি না। টাকাগুলো বিকাশ, রকেট বা নগদে ব্যাংক থেকে পাঠিয়ে দিল সহজে পেয়ে যেতাম। আমার মতো অনেকের কষ্ট করতে হতো না।
বুধবার (১৩ মে) উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বিধবা ও বয়স্ক ভাতা দেওয়ার তারিখ। তাই উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকের সামনে সকাল থেকেই সিঁড়ি ও গেইটে ব্যাংকের প্রবেশ পথে গাদাগাদি করে ভাতা টাকা নেয়ার জন্য লোকজন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।
সেখানে সামাজিক দূরত্ব না মেনে লোকজন বসে আছেন আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন কখন ডাক পড়বে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছেন, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুবিধাভোগীদের ভাতা দিচ্ছেন।
ব্যাংকের গ্রাহকগণ জানান, একে তো করোনার সময় অন্য দিকে প্রচণ্ড গরম। এর মধ্যে সকালে ব্যাংকে টাকা উঠানোর জন্য গিয়ে দেখি গেইটে মানুষের জটলা। মানুষের ভিড় ঠেলে ব্যাংকের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠার কোনও উপায় নেই। পরে ফিরে এসেছি। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।
তারা আরও বলেন, ভাতা নিতে আসা লোকজনকে যদি বিকাশ, নগদ বা রকেটে টাকা দেওয়া হতো তাহলে ভালো হত। ওইসব বয়স্ক ব্যক্তিদের কষ্ট করে ব্যাংকে আসতে হতো না আর ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ গ্রাহকদের সমস্যা হতো না।
তাহিরপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান সুজন বলেন, বয়স্ক, বিধবা ভাতাসহ সকল ধরনের ভাতা মোবাইল ব্যাংকিং, বিকাশ, রকেট, নগদে সুবিধাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল নম্বরে দিলে দূরদূরান্ত থেকে আসা লোকজনের সময় ও টাকা দুটোই সাশ্রয় হতো। একবার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু সহযোগিতা না করায় তা আর হয় নি।
সোনালী ব্যাংক তাহিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক অনুপ কান্তি চক্রবর্তী জানান, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ সমাজসেবার। আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টাকা দেওয়ার।
এই টাকা অন্যান্য মাধ্যম যেমন বিকাশ, রকেট, নগদে দেওয়া যায় কি না বা আপনারা এই পরামর্শ দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করতে পারি না। তবে বিকাশ, রকেট, নগদে সকল ধরনের ভাতা দেওয়া বা না দেওয়া সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে দিলে ভাল হতো। এতে করে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজনকে কষ্ট করতে হতো না।