বড়লেখা প্রতিনিধি | ১৩ মে, ২০২০
লটারিতে নির্বাচিত কৃষককে সশরীরে উপস্থিত থেকে ধান বিক্রিয় করতে হবে জানিয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান বলেছেন, ‘কার্ডধারী তালিকাভুক্ত কৃষক ব্যতীত অন্য কেউ খাদ্যগোদামে যেতে পারবেন না। এরকম অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধান ক্রয়ে অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ইউএনও বড়লেখা উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের জন্য লটারিতে কৃষক বাছাই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগ আছে, অতীতে অনেক কৃষক সিন্ডিকেটের কাছে কৃষক কার্ড বিক্রি করে দিতেন। এবার কোনো কৃষি কার্ড বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক ছাড়া অন্য কারো কাছে কার্ড পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাছাই অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোস্তাক আহমদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলার আব্দুল মালিক ঝুনু, সাংবাদিক আব্দুর রব, লিটন শরীফ, কৃষক পরিন্দ্র দাস ও সুজিত দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার।
লটারিতে বোরো ধান বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৩১ জন কৃষকের মধ্য থেকে ৭৪৩ জনকে বাছাই করা হয়। প্রান্তিক, মাঝারি ও বড় শ্রেণীতে কৃষকদের আলাদা করে লটারি করা হয়েছে।
সরকারিভাবে ধান কেনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেতে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই করা হয়। উপজেলা কৃষি ও খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) থেকে নির্বাচিত কৃষকরা খাদ্যগোদামে ধান বিক্রি করতে পারবেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে বড়লেখায় এবার কৃষকের কাছ থেকে ৭৪৩ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। ২৬টাকা কেজি ধরে সরকার প্রতি টান ধান ক্রয় করছে ২৬ হাজার টাকায়। একজন কৃষক সর্বনিম্ন ৩ বস্তা (১২০ কেজি) থেকে সর্বোচ্চ ১ মেট্রিক টন ধান বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা।
কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত কৃষক যাতে ধান বিক্রি করতে পারেন এ জন্য মাঠ পর্যায় থেকে তালিকা তৈরি করা হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্তভাবে লটারিতে কৃষক বাছাই করা হয়েছে। নির্বাচিত কৃষক ব্যতীত কেউ ধান বিক্রয় করতে পারবে না। এবার ১০টি ইউনিয়ন মিলিয়ে বোরো আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৬৮ হেক্টর। কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ১০৭ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক বোরো টন ধান।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, ‘কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করছি। মাঠ পর্যায় থেকে সকলের সহযোগিতায় কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এরপর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্তভাবে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই করা হয়। বাছাইকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’