দিরাই প্রতিনিধি | ১৭ মে, ২০২০
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অবাধে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। উপজেলার বেশিরভাগ কাপড়সহ অন্যান্য দোকানগুলোতে ঈদের কেনাকাটায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১০ মে থেকে স্বল্প পরিসরে দোকানপাট খোলা যাবে সরকারিভাবে এমন ঘোষণার পর থেকেই সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে জন সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও করোনাকালে হাওরে পাড়ে অনেকটা অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় কিন্তু বোরো ফসলে বাম্পার ফলন হওয়ায় হাওর পাড়ের মানুষ এখন অনেকটা সচ্ছল। দীর্ঘদিন ধরে সকল দোকানপাট বন্ধ থাকা ও ঈদ কে সামনে রেখে জমে উঠেছে দিরাইয়ের সেন মার্কেট সহ মধ্যে বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
দোকান গুলোতেও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই বেচাকেনা চলছে। তারা কেউই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না। নারীরা শিশুদের নিয়েও এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পছন্দের পোশাক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলছে ঈদের কেনাকাটা।
মার্কেটগুলো সকাল থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দোকানে বিক্রেতাদের নেই সুরক্ষা সামগ্রী। ক্রেতারা আবার মাস্ক ও গ্লাভস ছাড়াই পোশাক কিনছেন। গাদাগাদি করে কেনাকাটা করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বাস ষ্টেশনসহ বিভিন্ন গলির দোকান বিকাল ৪ টার পরও খোলা রাখতে দেখা যায়।
এ ছাড়াও রাস্তায় অধিক মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, রিকশা নামায় বিভিন্ন রাস্তার মোড় এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভিড়ের কারণে অনেক সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় করোনার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের নির্দেশনা না মেনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাফেরা করায় দুশ্চিন্তার পড়েছেন হাওর পাড়ের সচেতন মহল।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠে থাকলেও কেউ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না ।
বিজ্ঞাপন
সুমন মিয়া নামক এক ক্রেতা জানান, বোন জামাইকে ঈদের জামা উপহার দিব তাই বাজারে এসেছি। কিন্তু দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না ফলে করোনা
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম নজরুল বলেন, ক্রেতাদের ভিড় সামল দিতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। অনেক দোকানে ভিড় দেখে, ক্রেতাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক দূরত্ব না মানলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ বলেন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রশাসন মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সরকারি নির্দেশে শহরের মার্কেটগুলো খোলায় দোকানগুলোতে ভিড় করে পোশাকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন ক্রেতারা। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৪ জন পথচারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।