সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
ছুটি পেলেই অনেকে ছুটে যান দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে।
তবে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের আগে পর্যটকদের প্রশাসনের জারি করা ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সম্প্রতি হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় এসব নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. হাওরের যেসব অংশ প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ), শুধু সেসব এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান প্রবেশ ও চলাচল করতে পারবে না। অন্য অংশে হাউসবোট বা পর্যটকবাহী নৌকা চলাচলে বাধা নেই। নৌকাগুলো পর্যটকদের নিয়ে মাটিয়ান হাওর, বৌলাই নদ হয়ে টেকেরঘাট পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।
২. সব হাউসবোটের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া কোনো হাউসবোট বা নৌযান পরিচালনা করা যাবে না।
৩. হাউসবোটে উচ্চস্বরে গানবাজনা, মাইক ব্যবহার ও পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ।
৪. একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক বহন করা যাবে না।
৫. প্রতিটি নৌযানে পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখা বাধ্যতামূলক।
৬. হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে।
৭. হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না।
৮. হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৯. পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
১০. পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং ট্যুর শুরুর আগে পর্যটকদের তা জানাতে হবে।
১১. জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বর দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে।
১২. প্রতিটি ট্যুরে পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখতে হবে। ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকলে পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।