সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৯ জুলাই, ২০২৬
যশোর শহরের একটি মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার পর নিজের মেয়েকে ‘মানসিক রোগী’ দাবি করে ফেসবুকে এসে ক্ষমা চেয়েছেন যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রসুল।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে জামায়াত নেতার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন।
পরে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ফেসবু দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পাশাপাশি ক্ষমা চেয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকার কথা বলেছেন।
গোলাম রসুল তার মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে বলেন, “ভারতের হায়দরাবাদ ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আমি মর্মাহত। এই ভুলের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই।”
এদিকে, সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ফেসবুক লাইভে যখন মেয়ের ‘মানসিক রোগী’ হিসেবে নানা প্রমাণপত্র দেখাচ্ছিলেন, তখন পাশে থাকা তার মেয়ে জানাচ্ছিলেন কোনটা কোন রোগের ব্যবস্থাপত্র। এবং সে অনুযায়ী গোলাম রসুল সেগুলো বর্ণনা করছিলেন। ভিডিওতে গোলাম রসুলকে দেখালেও তার মেয়েকে দেখানো হয়নি, শুধু গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যের বাসভবনে হামলার ঘটনার পর বিকালে ঘটনাস্থলে যান জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা ইমাম পরিষদের নেতারা। যশোর পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগামীকাল (বুধবার) সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও অভিযোগকারীদের নিয়ে বসা হবে। সেখানে রাজনৈতিক ও জেলা ইমাম পরিষদের প্রতিনিধিও থাকবেন। সে সময় বিষয়টি মীমাংসা হবে।”
সকালে হামলায় আহত এক নারীর স্বামী নাছির উদ্দীন নয়ন সংসদ সদস্যের মেয়ের নামে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের শহরের বাড়ির সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ নামের একটি মাদ্রাসা রয়েছে। সোমবার সকালে সংসদ সদস্যের মেয়ে মাদ্রাসার ঢুকে আয়ান নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের কাছে অভিযোগ করলে তিনি মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতে বলেন। এদিন সকালে মাদ্রাসা খুললে সংসদ সদস্যের মেয়ে তালা নিয়ে বন্ধ করতে যান। বাধা দিলে তিনি তালা দিয়ে এক অভিভাবকের মাথায় আঘাত করেন।
এতে অভিভাবক রোক্সেনা রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় অন্যান্য অভিভাবকসহ আশপাশের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ সদস্যের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে ভবন লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাড়ি জানালার কাচ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তবে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনার দাবি, তার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুরা বিভিন্ন সময় গিয়ে গোলযোগ করে। এর প্রতিবাদ করেছিলেন তার মেয়ে।
তিনি বলেন, “এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়েছে। এখন অহেতুকভাবে বাড়িতে হামলা করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
পুলিশ পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন বলেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।