সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ আগস্ট, ২০২৬
এনসিপি বগুড়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণের পর মারধর, টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, শনিবার রাতে আশরাফুল ইসলাম (৩০) নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দিয়েছেন। সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।
আশরাফুল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি নওগাঁ শাখায় কর্মরত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের দক্ষিণ গেইটসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বেতন উত্তোলন করে অটোরিকশায় করে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে তিন মাথা রেলগেইট অতিক্রম করে ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছালে এনসিপি নেতা শওকত ইমরান ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও চারজন দুটি মোটরসাইকেল দিয়ে অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর তাকে মোটরসাইকেলে তুলে মহানগরের পুরান বগুড়ার একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে নির্যাতন করা হয়। চাকু দিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৮২ হাজার টাকা, একটি রিয়েলমি ১৫টি মডেলের মোবাইল ফোন, একটি হুয়াওয়ে জিআর-৫ মিনি মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, ইসলামী ব্যাংকের এটিএম কার্ড এবং তিনটি মোবাইল সিম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে দুজনের নাম অভিযোগে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাদের ইচ্ছামত একটি জবানবন্দি ভিডিও করেন। পরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা না পাঠালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনসিপি নেতা শওকত ইমরানের মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, শওকত ইমরানের আসা অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও এনসিপির এ নেতার এক ভিডিও নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি প্রথমে বগুড়াভিত্তিক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হলেও পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভিডিওটি প্রকাশের পর বগুড়ায় এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত আছে।
তবে উল্লিখিত ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে শওকত ইমরানও কোনো বক্তব্য দেননি।