সিলেটটুডে ডেস্ক | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা গ্রামে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ নিয়ে মাত্র কয়েকজন স্বজনের উপস্থিতিতে চিরশায়িত হলেন জামায়াতের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম।
সোমবার রাত ১টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের সরদার পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায়। দাফন-পর্বে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা ফ্ল্যাটের কক্ষ থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঢাকায় ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে সোমবার মরদেহটি সাতক্ষীরায় নেওয়া হয়। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার সরদার পাড়ায় পৌঁছায়।
মরিয়মের মরদেহের সঙ্গে ছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুফু ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ কয়েকজন স্বজন।
মরদেহ পৌঁছানোর পর গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা তাতে ইমামতি করেন। এতে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
দাফনের আগে স্বজনরা মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
মরিয়মের বড় চাচি মুন্নী আক্তার বলেন, “আমাদের মেয়ে খুবই নরম ও ভদ্র ছিল। অনেক মেধাবী ছিল। জানি না এটা কেন ঘটেছে। মৃত্যুর রহস্য এখনো জানা যায়নি। ওর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মরিয়মের স্বজন ইয়াহিয়া বলেন, “গতকাল (রোববার) রাত ৭টার দিকে জানতে পারি মরিয়ম নাকি আত্মহত্যা করেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা তো আমরা জানি না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
মরিয়মের জন্মভূমি চৌদ্দরশি গ্রামে এখন পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা যায়।
তবে গভীর রাতে পুলিশ নিয়ে মাত্র কয়েকজন স্বজনের উপস্থিতিতে দাফন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হলেও তা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ বলেন, “অনিরাপত্তার বিষয় নয়, আমরা দায়িত্ব পালন করার জন্য গাবুরাতে উপস্থিত ছিলাম। দাফন-কাফন কাজ সম্পন্ন করা পর্যন্তই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। ভোররাতে ফিরে এসেছি শ্যামনগরে।”
এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর পর তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।