সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ নভেম্বর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর ‘গার্ড অব অনার’ ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ সভা করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের সামনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের আয়োজনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
একাত্তরের যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার ওবায়দুল কবির বাদলের সভাপতিত্বে এবং সাবেক জেলা কমান্ডার মো. ফজলুল হক সেন্টুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ক্যাম্প কমান্ডার নুরদীদা খালেদ রবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাতেন, আবদুল মান্নান দরানী, ফিরোজ রব্বানী, আকরাম খান, আবদুর রশিদ হাওলাদার, এস এম দুলাল, মশিউর রহমান, মো. মাহবুবুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, নিত্যানন্দ রায়, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান।
বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান ও যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে দাফনের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা উচিত।
এ সময় তারা বাধা সৃষ্টি করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চব্বিশের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। টুঙ্গিপাড়ায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২৪ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। পরে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলে জামায়াত সমর্থিত কর্মীরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ লাইনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন মানিক পশারী।
২০২৩ সালের ১৪ আগসস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।