সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দাবির আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও আন্দোলনকারীদের ওপর দমন পীড়নের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিএম কাদের বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে পোশাক শিল্প বা গার্মেন্টস খাত থেকে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বা ক্রমবর্ধমান বাজার দরের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ব্যয়, রান্নার জ্বালানির খরচ মিটানো বর্তমান বেতন কাঠামোতে শ্রমিকদের পক্ষে শুধু কষ্টসাধ্য নয়, বলা যায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় গার্মেন্টস খাতে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক তাদের জীবন ধারণের ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহ করতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে শ্রমিকরা তাদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করছে বেশ কিছু দিন যাবত।
তিনি বলেন, লক্ষ্য করছি সরকার তাদের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে দমন নিপীড়নের আশ্রয় নিয়ে আন্দোলন বন্ধ করার উদ্দেশ্যে শারীরিক ভাবে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করছে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ আশেপাশের বসবাসরত অসংখ্য বিভিন্ন শ্রেণি মানুষকে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী জানতে পারলাম গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আহত তৌফিক নামে একজন পোশাক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি। নিহতের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও তাদের ন্যায় সঙ্গত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবী করছি।
জিএম কাদের বলেন, আশঙ্কা করছি শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে সরকার মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাসের বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ না থাকা ইত্যাদি কারণে কারখানাগুলিতে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি, বন্দর সমূহের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে মালিকরা বিপর্যস্ত। তাদের উৎপাদন খরচ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ প্রেক্ষিতে, শ্রমিকদের বাড়তি বেতনের দায়ভার নিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা দুঃসাধ্য হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব ও ভোগ্যপণ্যের বাজার সীমিত হয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের দাবি ন্যায্য। সরকারের দায়িত্ব ন্যায়সংগত সমাধান। এক্ষেত্রে, শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত মজুরি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। যথাযথ হিসাব করে নগদ অর্থ সহায়তা অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিকদের ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, রান্নার জ্বালানি হিসাবে এলপি গ্যাস ইত্যাদি মালিকদের মাধ্যমে বা সরাসরি শ্রমিকদের সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে মনে করছি।