Sylhet Today 24 PRINT

৭ নভেম্বরের ব্যানারে জিয়ার ছবি না থাকায় শুরুতে মঞ্চে উঠেননি প্রতিমন্ত্রী

জিয়া পরিষদের নেতা শেখ মুজিবকে জাতির পিতা বলায় হট্টগোল

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার মূল ব্যানারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়াউর রহমানের আলাদা একটি ছবি সাঁটিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এদিকে একই অনুষ্ঠানে এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করায় আরেক দফা হট্টগোল হয়।

দুই দফায় হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া সভায় জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এ ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল। তবে মূল ব্যানারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে ওঠেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে ব্যানার নামিয়ে আলাদা জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার স্কচটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটানোর পর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে আসেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আলোচনা সভা চলাকালে জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান তার বক্তব্যে একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে সভাস্থলে আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান এবং পরবর্তীতে ওই বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে প্রতিবাদ করেন।

জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া জানান, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। এমন ত্রুটির জন্য তিনি অনুষ্ঠানে সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুরো বিষয়টি ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই দিবস পালন করা হচ্ছে, অথচ শহিদ জিয়াউর রহমানের ছবি ছাড়াই ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এটি প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছুই না।

পরিবেশ শান্ত হলে পরে ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.