Sylhet Today 24 PRINT

এমপির সুপারিশে বিস্ফোরক মামলার জেলখাটা আসামিকে নিয়োগদান

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৭ মে, ২০১৬

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনের সুপারিশে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও বিস্ফোরক মামলার জেলখাটা এক আসামিকে নিয়োগদানের কারণে জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে।

এমপি তুহিনের সুপারিশে নান্দাইল পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রারের শূন্যপদে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও বিস্ফোরক মামলার জেলখাটা আসামি কাজী মো. শামসুদ্দিন নিয়োগ পেয়ছেন। আর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এমপি তুহিনের জামায়াতপ্রীতি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া!

তিনি বলেন, ‘এমপি তুহিন সব সময় চলাফেরাই করেন জামায়াত-বিএনপি আর জাতীয় পার্টির নেতাদের নিয়ে। টাকা হলে তিনি সব করতে পারেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে কাজী হিসেবে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না’।

জানা গেছে, উপজেলার নান্দাইল পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত ছিলেন হুমায়ুন কবির। গত ২৮ এপ্রিল তিনি মারা যান। এরপর শূন্য এ পদে আঁচারগাঁও ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মো. নুরুল ইসলামকে ১২০ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার বিএম মোসাদ্দেক হোসেন ৩৭৯ (৭) নং স্মারকে গত ২ মে নুরুল ইসলামকে এ পদে দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন। কিন্তু মাত্র ৮ দিনের মাথায়ই এ আদেশ পরিবর্তিত হয়ে যায়।

গত ১০ মে নান্দাইল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মো. শামসুদ্দিন নিজেকে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন জানান।

শামসুদ্দিনের ওই আবেদনে ‘জোর সুপারিশ’ করেন এ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আবেদিন তুহিন। এমপির সুপারিশে দৌলতে গত রোববার (১৫ মে) নিয়োগ পান জামায়াত নেতা শামসুদ্দিন।

অথচ এ জামায়াত নেতারই কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর নান্দাইল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী পদে উপজেলা ওলামা লীগের সদস্য মাসুদ মিয়াকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছিলেন এমপি তুহিন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাজী মো. শামসুদ্দিন ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর নান্দাইল মডেল থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার দুই নম্বর আসামি। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকেসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ওই মামলা দায়ের করেছিলেন।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মাস কয়েক আগে শামসুদ্দিন ওই মামলায় কারাবরণ করে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন।

তবে জামায়াত নেতা শামসুদ্দিন কাছে দাবি করেন, তিনি এখন আর জামায়াত করেন না। জেল খেটে বেরিয়ে আসার পর জামায়াতের সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্কও নেই। নিজেই স্বেচ্ছায় এমপির সুপারিশে পাওয়া এ অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেবেন।

ময়মনসিংহ জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘জামায়াতের লোক ছাড়া বিধি মোতাবেক যেকোনো কাজীকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি ছিল আমাদের। কিন্তু আমাদের দাবি আমলে নেওয়া হয়নি’।

সূত্র মতে, এমপি তুহিনের জামায়াতপ্রীতিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিতর্কের। আর এ বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই তোপের মুখে পড়া এমপি সোমবার (১৬ মে) কথা বলেছেন জেলা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে। দু’একদিনের মধ্যেই তিনি জামায়াত নেতার নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ পাঠাবেন বলেও জানিয়েছে একটি সূত্র।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.