চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ২০ মে, ২০১৬
নারয়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনাকারী সাংসদ সেলিম ওসমান ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
শুক্রবার নগরীর চেরাগিপাহাড় চত্বরে মানবন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। সেলিম ওসমানের বিচারের দাবীতে ফেইসবুকের "শিক্ষক লাঞ্ছনার হোক প্রতিবাদ" ইভেন্টের ডাকে বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে এতে অংশ নেয় কয়েকশ' মানুষ। এই সময় নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা।
মানবন্ধনে উপস্থিত অনলাইন এক্টিভিস্ট হিল্লোল দত্ত বলেন, ‘আজকের সমাবেশে শুধু শিক্ষক অবমাননার বিপরীতে প্রতিবাদ নয়, অনন্ত তিনটি অন্যায়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে বৈরী হাওয়াকে উপেক্ষা করে এখানে দাঁড়িয়েছি। প্রথমত, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে মাননুষকে ভিক্টিম করা এবং তাদের এমনকি প্রাণনাশ করা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবমাননা, যা তাঁর মৃত্যুতুল্য। তৃতীয়ত, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য হয়ে শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা। আমরা সব কিছুর বিচার চাই।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন শহিদুল ইসলাম শাহেদ, রাজেশ পাল এবং ইসমাইল আজাদ শাকিল।
বক্তরা আরো বলেন, ‘এই লজ্জা আমাদের পুরো জাতির। শুধু একজন শিক্ষক লঞ্ছিত হননি। লাঞ্ছিত হয়েছে পুরো বাংলাদেশের শিক্ষক ছাত্ররা। আমাদের দাবি যথাযথ বিচারের আওতায় আনতে হবে সাংসদ সেলিম ওসমানকে।
এর আগে একই স্থানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আল মোস্তফা এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফাতেমা বিনতে রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের গর্ব। কিন্তু বরাবরই যুদ্ধেও পর থেকে নানা ভাবে লাঞ্চিত হতে হয়েছে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের। স্বাধীনতার এত বছর পরেও প্রাপ্য সম্মান তাঁরা পাননি। বরং জোড়জবরদস্তি করে তাদের সম্পত্তি লুটের কার্য সম্পাদনে নেমেছে কিছু অসাধু লোক। তারা সরকার দলীয় লোকদের আশ্রয়ে নির্ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। এই অন্যায় কোনভাবে মানার নই। আমাদের দাবী ঐ সরকারদলীয় ক্যাডারদের অবিলম্বে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হোক। এছাড়া ঐ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
উল্লেখ্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর প্রশ্রয়ে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেলুর রহমানের জমি জবর দখলের পায়তারার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে মুক্তিযোদ্ধা এই পরিবারকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়া হয়েছে এই পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু এই বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোন প্রতিকার পাননি, এমনটাই দাবি মুক্তিযোদ্ধা এই পরিবারের। এমাতাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় দিন অতিবাহিত করছেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এবং মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জমায়েত দুটি এক হয়ে মিছিল সহকারে জামালখান প্রেসক্লাব মোড়ে এসে শেষ হয়।