তোফাজ্জেল অভি, চট্টগ্রাম | ২৫ মে, ২০১৬
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে বান্দরবনের থানচি খুব চেনা নাম। থানচি উপজেলার অতি দুর্গম রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নে বসবাসরত পাহাড়ীদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম হল জুম চাষ। সাধারণত জুম চাষের মাধ্যমে সারা বছরের ধান সংগ্রহ করে রাখেন তারা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত বছর পাহাড়ে জুম থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান না পাওয়ায় জুমিয়া পরিবারগুলোতে এ বছরের মার্চ মাস থেকেই খাদ্য সংকটে দেখা দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গোম এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দারা এক বেলাও খেতে পারছেন না। কোন কোন পাড়ায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবারের কারো ঘরেই নেই খাবার। হাড় জিরজিরে শরীর নিয়ে তারা অপেক্ষা করছেন সাহায্যের। তবে অতি দুর্গোম হওয়ায় সময়ময় খাদ্য পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না। এসব এলাকায় জঙ্গলি আলু, মিষ্টি কুমড়া ও কলাগাছ খেয়ে কাটছে পাহাড়িদের দিন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যাহলাচিং মারমা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মার্চে বৃষ্টির কারণে জুম চাষ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে । সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিন্দু এবং জনবিচ্ছিন্ন এলাকা গুলোতেই এই সংকট আরো বেশি । মানবিক বিপর্যয়ের রোধে আগস্ট পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যন্ত জরুরীভিত্তিতে জেলা প্রশাসন থেকে দুর্গত এলাকায় ৮০০ পরিবারের জন্য ১৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল ।
স্থানীয় সাংবাদিক অনুপম মারমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই এলাকার এই এলাকার ৯৫ শতাংশ মানুষ জুমচাষের উপর নির্ভরশীল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জুম চাষ না হওয়ায় এখানকার পরিবারগুলো জঙ্গলি আলু, মিষ্টি কুমড়া ও কলাগাছ খেয়ে বেঁচে আছে । এই ব্যাপারে তিনি প্রশাসনিক সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াও দেশের মানুষকে এই দুর্যোগ মোকাবেলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শেষ খবর অনুযায়ী, ফেইসবুকে মানবিক সাহায্য চেয়ে "থানচির দুর্ভিক্ষে আক্রান্তদের বাঁচাতে এগিয়ে আসুন'' নামের একটি ইভেন্ট করা হয়েছে । এই ইভেন্টটি করেছেন রাজুময় থানচংয়া বলেন, "ইতিমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন স্টুডেন্ট যোগাযোগ করে বলেছেন তারাও ফান্ড কালেকশন করছেন নিজস্ব অবস্থান থেকে। আমরা শীঘ্রই থানচি যাব, মানুষের পাশে দাঁড়াব।
তিনি বলেন, "আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান আর ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন সেচ্ছাসেবী কাজ করছি। আপাতত কিছুটা হলেও ফান্ড কালেক্ট করে যা হয় তা দিয়ে আগামী ৫তারিখ উপকরণসহ গিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহযোগীতায় বিতরণ করব।" যে কেউ চাইলে সেখানে সাহায্য করতে পারেন বলেও জানান তিনি।