উর্মি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম | ২৭ মে, ২০১৬
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জুম চাষের ক্ষতি হওয়ায় বান্দরবনের থানচিতে সৃষ্ট চলমান খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার ( ২৭ মে) থানচির উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসায় খাদ্য সংকট দূরীকরণে এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যাহলাচিং মারমা, সাবেক চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যাহলাচিং মারমা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন , সরকারি ভাবে ৩০ মেট্রিক টন চাল পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। সেই এখনো পৌঁছায় নি। তবে আমরা আশা করছি শীঘ্রই তা পৌঁছে যাবে। এছাড়া বেসিরকারি বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে এ পর্যন্ত এক লাখ বিশ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এই টাকা দিয়ে ১০ মেট্রিক টন চাল কেনা হবে। সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ একসাথে আগামী ৫ জন বিতরণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
এ সময় তারা বিতরণের জন্য পাঁচটি স্থান নির্ধারণ করেন । স্থান গুলো হলো রেমাক্রির "সতীশচন্দ্র " ও " মইয়ারাং"। তিন্দুর " বাদুনিয়া","বজন ", " নাইকিং(naikhing) "। তবে এই এলাকাগুলোতে সহজে যাতায়াতের উপায় না থাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে বলে জানান ক্যাহলাচিং মারমা।
আরও পড়ুন- কলাগাছ আর জংলি আলু খেয়ে কাটছে তাদের দিন!
যেহেতু পাহাড়ি অঞ্চল গুলোতে শুধু মাত্র জুম চাষের উপর নির্ভর করতে হয়। বিকল্প ব্যবস্থাও তৈরি করা উচিত কিনা জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, এই বিষয়ে মিডিয়ার সহযোগিতা খুব দরকার।
থানচি এলাকায় ত্রাণ বিতরণে কাজ করা রাজুময় তঞ্চংঙ্গা এই বিষয়ে বলেন, ফেসবুক ইভেন্টের মাধ্যমে অনেকের কাছে এই তথ্য পৌঁছে যায় । এরপর থেকে আমরা আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি । দেশ এবং দেশের বাইরে থেকেও প্রচুর অর্থ সাহায্য পাচ্ছি । বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ৫ জুন সংকটময় এলাকাগুলোতে যাব এবং আগস্ট মাস পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত রাখব। তিনি মিডিয়া সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই সংকটময় এলাকাগুলোতে অনেক সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পৌঁছে গেছে।
উল্লেখ্য, থানচি এলাকার ৯৫ শতাংশ মানুষ জুমচাষের উপর নির্ভরশীল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জুম চাষ না হওয়ায় এখানকার পরিবারগুলো বর্তমানে চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে। তারা জঙ্গলি আলু, মিষ্টি কুমড়া ও কলাগাছ দিন পার করছে বলে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।