Sylhet Today 24 PRINT

তাজরিন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অবস্থান ধর্মঘট

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

তাজরিন ট্রাজেডিতে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে।

রোববার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক মো. বাহারানে সুলতান বাহারের সভাপতিত্বে এ অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়।

অবস্থান ধর্মঘটে বক্তারা বলেন, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছিলো ১১৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী, আহত হয়েছিল প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক। সে সময় অনেক সংগঠন, দেশি-বিদেশি এনজিও, ব্যাংক-বীমা, শ্রম মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ’র আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বুক ভরে গিয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং অতিদ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনবেন। আমরা অতি দুঃখের মাঝেও সুখের হাসি হেসেছিলাম। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র কয়েকজন শ্রমিককে মাত্র ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা করে অনুদান দিয়েছিলেন এবং দোষীরা আজও বহাল তবিয়তে রয়েছে।

তারা বলেন, আমরা প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী বিভিন্নভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও মানবেতর জীবনযাপন করছি। কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ বা সাহায্য সহযোগিতা আমরা পাই নি। তাই আজ নিজেদের জীবন রক্ষার্থে আপনাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমাদের এ দুঃখ দুর্দশার কথা মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে আমরা যারা এখনও কর্ম অক্ষম হয়ে আছি তাদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তিনি গ্রহণ করবেন।

জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক মো. বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, আইএলও সর্বমোট ১৭৩ জন শ্রমিককে আর্থিক সহায়তা করেছিলো। ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বিলস এবং সিআরপি আশুলিয়া শাখা কর্তৃক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় নিবন্ধিত ১৭৩ জন শ্রমিককে। প্রথম দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তা সিআরপি আশুলিয়া শাখা তত্ত্বাবধান করে। Wallmart, Zaru, KK buyer, CNA, Linkin, GAP, Acland সহ সর্বমোট ১৬টি বায়ারের কাজ চলত তাজরীন ফ্যাশনে। কিন্তু ঘটনার সময় Wallmart এর কাজ চলছিল। পরবর্তীতে Wallmart বায়ার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলো কিন্তু তা আজ অবধি দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অনেক বায়ার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা পায় নি। বিজিএমইএ কিছু শ্রমিককে সামান্য ক্ষতিপূরণ দিলেও আজ অবধি আহত শ্রমিকরা কোন সাহায্য পায়নি। ব্র্যাক ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলো আজও তা দেওয়া হয়নি। তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেডের মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বললেও সেটা শুধু মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া কিছুই ছিলো না। ওশি ফাউন্ডেশন আর্থিক সহায়তার কথা বলে এই সব অসহায় শ্রমিকদের বিভিন্ন লোভ দেখান এবং পরবর্তীতে কোন সাহায্য করে নাই। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা বিভিন্ন ভাবে এই সংগঠনের দ্বারা হয়রানির শিকার হোন।

অবস্থান ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেন- কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা, তাজরিন ট্রাজেডিতে আহত শ্রমিক মোঃ মিরাজ, মোঃ সোলেমান, জরিনা, রোখছানা, রেহেনা, নাসিমা প্রমুখ। ধর্মঘটে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সভাপতি হারুন চৌধুরী, মাহাতাব উদ্দিন শহীদ, শান্তনা আক্তার, আল আমিন, গাজীনূর আলম, শামীম, অন্তর রহমান প্রমুখ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.