সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০
যুক্তরাজ্যজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করা নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসটির কাছাকাছি স্ট্রেইন বাংলাদেশে আগে থেকেই আছে বলে জানিয়েছেন দেশের গবেষকরা। গত নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) করোনাভাইরাসের পাঁচটি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, সে সময় পাওয়া মিউটেশনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসের মিল রয়েছে।
বিসিএসআইআরের জীবতাত্ত্বিক গবেষণা বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান আজ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা সার্স-কোভ-২ এর নতুন যে পরিবর্তন পেয়েছিলাম, সেগুলোর একটি যুক্তরাজ্যের নতুনটির মতো। তবে শতভাগ একরকম নয়। দুই মাস আগে জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছি। এরপরে প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট না থাকায় কাজ বন্ধ আছে। আমরা শিগগিরই শুরু করব।’
বিজ্ঞাপন
ড. সেলিম খান বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ যে সিকোয়েন্স করা হয়েছে, তাতে ভাইরাসটির দুটি স্পাইকে প্রোটিন মিউটেশন পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্যে শনাক্ত নতুন ভাইরাসটির স্ট্রেইনে যে বৈশিষ্ট্য আছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশে পাওয়া ভাইরাসটির পুরোপুরি মিল না থাকলেও অনেকটাই মিল রয়েছে।
বিসিএসআইআর-এর এই গবেষক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আগে এমন মিউটেশনের খবর রাশিয়া এবং পেরুতে পাওয়া যায়। ওই দেশগুলোতে একটি করে নমুনায় এমন মিউটেশন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে মোট ১৭টি নমুনার মধ্যে ৫টিতেই এমন মিউটেশন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
সেলিম খান বলেন, আগারগাঁয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার থেকে ওই নমুনাগুলো জেনোম সিকোয়েন্সের জন্য নিয়েছিলেন তারা। তবে কাদের কাছ থেকে এই নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করতে নমুনার তথ্য এরই মধ্যে ওই সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিসিএসআইআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।