Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে এখন পর্যন্ত সুস্থ হননি কেউ

নভেল করোনাভাইরাস

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৬ এপ্রিল, ২০২০

শনিবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭৯ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৩ জন। তবে পুরো বিভাগে এখন পর্যন্ত একজন রোগীও সুস্থ হননি।

সিলেটের ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই হাসপাতালে বর্তমানে ১২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এখানে চিকিৎসা নেওয়া করোনা আক্রান্ত দু'জন রোগী মারা গেছেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও একাধিক। তবে এই হাসপাতাল থেকে কেউ এখন পর্যন্ত কেউ সুস্থ হয়ে বের হননি।

সিলেটে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার অব্যবস্থাপনা ও অপ্রতুলতার বিষয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর স্বজনরাও এই হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এখানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার মতো যথেষ্ট যন্ত্রপাতি ও লোকবল না থাকারও অভিযোগ ওঠেছে।

বিজ্ঞাপন

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুশান্ত মহাপাত্র সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১২ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে আছেন আরও ছয়জন। তাদের মধ্যে বড়লেখার একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকীদের অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে পুরাপুরি সুস্থ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

তবে শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় সবধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিলেটে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন গত ৫ মে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন করোনায় আক্রান্ত হন। প্রথমে বাসায় চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৭ এপ্রিল তাকে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ডা. মঈনের স্বজনরা। পরে ৮ এপ্রিল ডা. মঈনকে ঢাকায় নিয়ে যান তার স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল তিনি মারা যান।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসা চুনারুঘাটের করোনা আক্রান্ত এক শিশু মারা যায়।
সারাদেশে এপর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪১৬ জন। এরমধৌে ১৪৫ জন মারা গেছেন এবং ১২২ জন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সুস্থ হওয়ার হার অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ।

এরআগে গত ২২ মার্চ করোনার উপসর্গ যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক নারী শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর ওই নারীর স্বজনরাও রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতালে ফেলে রাখার অভিযোগ তুলেন।

সিলেটে করোনাভাইরাস আক্রান্ত দ্বিতীয় রোগী শনাক্ত হন ১৩ এপ্রিল। ওসমানী হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন ওই প্রসূতি নারীকে ওইদিনই শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিনি এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

৭ এপ্রিল থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনার পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমদিকে পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত না হলেও গত এক সপ্তাহে রোগী শনাক্তের হার ব্যাপক হারে বেড়েছে। যা শনিবার পর্যন্ত ৭৯ তে গিয়ে ঠেকেছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সিলেটে এখন পর্যন্ত কেউ পুরাপুরি সুস্থ হননি। তবে দু'তিনজনের অবস্থা ভালোর দিকে। বিশেষত শামসুদ্দিনে হাসপাতালে গত ১৩ এপ্রিল ভর্তি হওয়া প্রসূতির অবস্থা অনেকটা ভালো। আশাকরছি তাকে এই সপ্তাহেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ১৪দিন পর দুইবার নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। পরপর দুটি পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলে রোগীকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়।

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল ছাড়াও বিভাগের অন্যান্য আক্রান্তরা জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের তেমন কোনো উপসর্গ নেই তারা বাড়িতে আইসোলেশনে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.