Sylhet Today 24 PRINT

স্ত্রীর বাড়িতে কাদের, বউয়ের গাড়িতে ফখরুল

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ ডিসেম্বর, ২০১৮

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অথচ রাজধানীতে তার কোনো ফ্ল্যাট বা বাড়ি নেই। থাকেন স্ত্রীর বাড়িতে। আর রাজনীতিতে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। ব্যবহার করেন স্ত্রীর দেয়া গাড়ি।

দেশের বড় দুই দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিব দুজনই স্ত্রীর দ্বারস্থ। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নোয়াখালী-৫ আসন থেকে ওবায়দুল কাদের নির্বাচন করবেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের দুজনের হলফনামা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ স্ত্রীর চেয়ে বেশি। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- উত্তরায় অর্জনকালীন সময়ের ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি। ওবায়দুল কাদেরের নিজস্ব কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। স্ত্রীর অর্জনকালীন সময়ের ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক হাজার ৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে।

মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। অতীতে ১২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। অব্যাহতিমূলে ৯টি নিষ্পত্তি এবং ৩টিতে খালাস পেয়েছেন।

আয়ের স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন, বাড়ি ভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার, বই লিখে আয় চার লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১ টাকা। ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১ টাকা। মাসিক গড় আয় দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ টাকা ২৫ পয়সা।

স্ত্রীর আয় আসে বাড়ি ভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৬ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ৯৩ হাজার ২৬০ টাকা, অন্যান্য আয় দেখিয়েছেন- তিন লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯ টাকা।

ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের নগদ টাকা আছে ৫৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৮৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ এক কোটি ২৪ লাখ ২১ হাজার। ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আর এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ তোলা স্বর্ণ আছে। তিনি উপহার পাওয়া মোবাইল ব্যবহার করেন। নিজের নামে আট লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে।

স্ত্রীর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬১১ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি নেই। এক লাখ টাকা মূল্যের ২০ তোলা স্বর্ণ আছে। ১২ হাজার টাকার টিঅ্যান্ডটি ও মোবাইল আছে। আছে এক লাখ টাকার আসবাবপত্র।

অন্য দিকে স্ত্রীর ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকা দামের একটি গাড়ি দানসূত্রে ব্যবহার করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্ত্রীর ব্যাংক-ব্যালেন্স তার চেয়ে বেশি।

হলফনামা অনুযায়ী, ফখরুলের নগদ ৪২ লাখ ৭১ হাজার ও ব্যাংকে এক লাখ ৪৩ হাজার টাকার মতো রয়েছে। তবে স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০ টাকা রয়েছে।

হলফনামায় ফখরুল তার আয়ের উৎস উল্লেখ করেন শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন ও পরামর্শক। এই চার খাত থেকে তিনি বছরে সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা আয় করেন।

এছাড়াও ফখরুল কৃষিখাত থেকে ৯৯ হাজার ৫০০, মার্কেটের ফার্মের শেয়ার থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ৯৪৭, শেয়ার বাজার ও ব্যাংক আমানত থেকে এক লাখ ৪১ হাজার ১৮১ টাকা, দি মিজার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এক লাখ ৬২ হাজার টাকার সম্মানী, ব্যাংক সুদ থেকে দুই হাজার ৮০৫ টাকা আয় করেন।

অতীতে ৩৮টি এবং বর্তমানে ৭টি ফৌজদারি মামলার আসামি তিনি। এর মধ্যে ১৪টি মামলার চার্জ গঠন ও শুনানি চলছে। হলফনামায় তিনি ৪৫টি মামলার কথা উল্লেখ করেন যার অধিকাংশ, নাশকতা, ভাঙচুরের হুকুম দেয়ার। ১৪টির কার্যক্রম চললেও বাকি মামলাগুলোর কার্যক্রম হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন, কয়েকটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.