জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দিক্ষণ সুনামগঞ্জ) আসনে দীর্ঘদেনর বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে আও্রয়ামী লীগ। ওই আসনের বর্তমান সাংসদ অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও আব্দুস সামাদ আজাদপত্র আজিজুস সামাদ ডন অনুসারীরা এক্যবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমএ মান্নান। আজিজুস সামাদ ডনও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। তিনি দল ছাড়ছেন বলেও গুঞ্জন ওঠে। এ অবস্থায় ডন অনুসারীরা মান্নানের পক্ষে মাঠে নামবেন কী না এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে গত মঙ্গলবার ডনের বাসায় মান্নানের যাওয়ার পর বিভেদের পারদ অনেকটাই গলে আসে। তাঁর আভাস মিলেছে জগন্নাথপুরের রাজনীতিতেও।
বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের বিভেদ ভুলে দুইপক্ষের মধ্যে ঐক্য হয়েছে। বেলা দুইটার দিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহরের হবিবপুর এলাকায় জগন্নাথপুর পৌরমেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আব্দুল মনাফের বাসভবনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভক্ত দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মান-অভিমান ভুলে দুইপেেক্ষর নেতাকর্মীরা নৌকার বিজয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।
বৈঠকে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ, দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হরমুজ আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি জগন্নাথপুর পৌরমেয়র আব্দুল মনাফ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুসহ দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) সুনামগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এমএ মান্নান আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডনের বাসভবনে যান। সেখানেই দু’জনের মধ্যে আলাপ আলোচনার পর নৌকার জয়ে দু’জনের মধ্যে ঐক্য হয়। যার প্রেক্ষিতে গতকাল আজিজুস সামাদ ডন বলয়ের উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি পৌর মেয়র আব্দুল মনাফের সম্বন্বয়ে বিবদমান আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি পৌর মেয়র আব্দুল মনাফ জানান, এমএ মান্নান ও আজিজুস সামাদ ডনের মধ্যে আলোচনার পর আমাদের দলীয় প্রার্থী অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এবং জগন্নাথপুরের আওয়ামীলীগ পরিবারের অভিভাবক জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যে সুন্দর পরিবেশে খোঁলামেলা বৈঠক শেষে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঐক্য হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে আগামী ১৬ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠিতকভাবে আমরা একত্রিত হয়ে বিজয় দিবসের কর্মসুচী উপযাপন করবো।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এমএ মান্নানের বিপক্ষে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এ নিবার্চনকে ঘিরে প্রকাশ্যে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে আওয়ামীলীগ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এমএ মান্নানের নিকট সামান্য ভোটে পরাজিত হন আজিজুস সামাদ ডন।
এমএ মান্নানের সাথে ছিলেন জগন্নাথপুরের আওয়ামী লীগ পরিবারের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সুনামগজ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী। অন্যদিকে আজিজুস সামাদ ডনের পক্ষে ছিলেন সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস হাসিমসহ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।
এ নির্বাচনে আজিজুস সামাদ ডন বর্তমান সংসদ সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের নিকট পরাজিত হন। এরপর থেকেই প্রকাশ্যে বিরোধে রূপ নেয় আওয়ামী লীগে। জাতীয় বিভিন্ন দিবসসহ সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম পৃথক পৃথকভাবে পালন করে আসছিল আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপ।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন আজিজুস সামাদ ডন। মনোনয়ন পান এমএ মান্নান। দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ ঐক্যে ডাক দেন। সেলক্ষে আজিজুস সামাদ ডনের বলের একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে মুঠোফোন আলাপ আলোচনা করে আসছিলেন।