বিশ্বনাথ প্রতিনিধি | ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮
মুনতাসির আলী না মুকাব্বির খান সিলেট-২ আসনে কাকে সমর্থন দেবে বিএনপি- এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ওই এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে।
উচ্চ আদালতে তাহসিনা রুশদির লুনার প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় এই আসনটি এখন বিএনপির প্রার্থী শূন্য। বিএনপির প্রার্থীর বাইরে ঐক্যফন্টের ও ২৩ দলীয় জোটের শরীক দুটি দলের দুইজন এ আসনে প্রার্থী হন। লুনা না থাকায় গণফোরামের মুকাব্বির খান ও খেলাফত মজলিসের মুনতাসিরের মধ্য থেকে একজনকে বিএনপি সমর্থন জানাতে পারে বলে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুনতাসির আলী এ আসন থেকে ঘড়ি প্রতীকে ও গণফোরামের মুকাব্বির খানের ভোটে দাঁড়িয়েছেন উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে।
তবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা নির্বাচনে থাকায় প্রার্থী হলেও এতদিন প্রচারণায় ছিলেন না মুকাব্বির খান। তিনি দেশের বাইরে আছেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি প্রচার থেকে দূরে থাকলেও লুনার অবর্তমানে ঐক্যফ্রন্টের শরীক দলের এ প্রার্থীকেই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র বেঁছে নিতে পারে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।
জোটের ওপর শরীক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর প্রতি ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় বিএনপির। মুনতাসির আলী জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন, অন্যদিকে তিনি প্রচারে ইলিয়াসপত্নী লুনার বিরুদ্ধেও কটূক্তি করেন বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। এ কারণে ভোটের হিসেবে মুকাব্বির খান থেকে এগিয়ে থাকলেও বিএনপি তাকে সমর্থন জানাবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জালালউদ্দিন বলেন, কাউকে সমর্থনের ব্যাপারে দলের হাইকমান্ড থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তারা সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবেন।
ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান এসটি ফখরউদ্দিন বলেন, প্রার্থী সমর্থনে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, তবে দলের বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপিল বিভাগে লুনার প্রার্থিতা স্থগিতের পর থেকে ওসমানীনগরে প্রচারও বন্ধ রাখা হয়েছে।
আর মুনতাসির আলী বলেন, কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত হোক এটি তার কাম্য নয়। তিনি চান এই আসনে সব প্রার্থীই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। ভোটাররা তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন-এটিই তার প্রত্যাশা।