সদরুল আমিন, ছাতক | ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩ যুগ পর একই মঞ্চে মিলিত হয়েছে ছাতক-দোয়ারার বিবদমান আওয়ামী লীগ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নৌকার বিজয় নিশ্চিতকরণে এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরো মজবুত স্বার্থে বিবদমান আওয়ামী লীগের মধ্যে এ ঐক্যের সুর বেজে উঠেছে মনে করছেন সাধারণ জনগণ।
শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ছাতক সরকারী বহুমুখী মডেল হাই স্কুল ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সমাবেশে জেলা ও উপজেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক এমপি এবং এ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত শামীম আহমদ চৌধুরী হাতে-হাতে মিলিয়ে ঐক্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
গত কদিন ধরে ছাতক-দোয়ারার আওয়ামী পরিবারের মধ্যে বইছিল সহনশীল ঐক্যের পরিবেশ। শুক্রবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের শুরু হয় এক বাঁধভাঙ্গা উল্লাস। নৌকা-নৌকা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা নির্বাচনী এলাকা। উভয় বলয়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোলাকোলি। এ মিলন মেলায় আবেগ-আপ্লুত হয়ে ভালোবাসার আবেগে মানিক-শামীম একে অন্যকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এসময় গোটা সভাস্থল পরিণত হয় আওয়ামী পরিবারের মিলন মেলায়।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই ছাতক-দোয়ারাবাজার আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী ঘাটি হিসেবে মনে করতেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ১৯৯৪ সাল থেকে ছাতক-দোয়ারাবাজারসহ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ দেশের দুই কিংবদন্তি নেতা, সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও সাবেক রেলমন্ত্রী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান প্রয়াত বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
অবিসংবাদিত দুই নেতার অনুসারী বর্তমান এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও বর্তমান পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও তার অনুজ শামীম আহমদ চৌধুরী নেতৃত্বে ছাতক-দোয়ারার আওয়ামী পরিবার দুইটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জাতীয় কর্মসূচী থেকে শুরু করে জাতীয়-স্থানীয় নির্বাচনেও দুটি বলয়ে পরিচালিত হতে দেখা গেছে। দলীয় কার্যক্রম নিয়ে বছরের পর বছর দুই গ্রুপের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ পক্ষে বিপক্ষে হামলা-মামলার ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারী মুহিবুর রহমান মানিক ও আব্দুস সামাদ আজাদের অনুসারী পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও তার অনুজ শামীম আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ছাতক-দোয়ারায় আওয়ামী পরিবারও ছিল দুইভাগে বিভক্ত। প্রত্যেক বলয়ে ছাতক-দোয়ারা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পৃথক পৃথক উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিও রয়েছে । জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় বিভেদ নিরসনে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ সিলেট সার্কিট হাউজে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়নি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ তিন যুগের দলীয় কোন্দল ভুলে গিয়ে একই মঞ্চে এক কাতারে দাড়িয়ে নৌকা বিজয়ের শপথ নেন ছাতক-দোয়রার আওয়ামী লীগ।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা পরিষদ সদস্য আজমল হোসেন সজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী।
এ সময় দোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, ছাতক পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, আওয়ামী লীগ নেতা আবরু মিয়া তালুকদার, সৈয়দ আহমদ, ছাতক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া, পৌর কমান্ডার অজয় ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন লালা, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম, দেওয়ান পীর আব্দুল খালিক রাজা, আব্দুল মছব্বির, আওলাদ হোসেন মাষ্টার, গয়াছ আহমদ, আখলাকুর রহমান, অদুদ আলম, সাইফুল ইসলাম, মুরাদ হোসেন, বিল্লাল আহমদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সুন্দর আলী, আফজাল আবেদীন আবুলসহ আওয়ামী লীগ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে শহরে নৌকার সমর্থনে একটি প্রচার মিছিল বের করা হয়।