নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
১৭ বছর পর সিলেটে এসে জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। শনিবার সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় নৌকায় মার্কায় ভোট চান তিনি। কাকতালীয়ভাবে এবার সিলেট বিভাগে নৌকা প্রতীক নিয়েও দাঁড়িয়েছেন ১৭ প্রার্থী। বাকী দুই আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির নেতারা লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
এরআগে সর্বশেষ অষ্টম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের জনসভায় নৌকায় ভোট চান আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। তবে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেটে কোনো জনসভা করেননি শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের সময় তিনি নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে আয়োজিত জনসভায় ঢাকা থেকে টেলিকনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও সিলেটে জনসভা করা হয়নি তাঁর।
গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে তিনি সিলেটে আসেন। ওই সময় তিনি ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিগত বছরগুলোতে ভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে প্রধানমন্ত্রী সিলেটে আসলেও নির্বাচনী প্রচার সফরে ১৭ বছর পর সিলেটে আসলেন তিনি।
শনিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরের চৌহাট্টাস্থ সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় নৌকার ১৭ ও লাঙ্গলের ২ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। জাতীয় পার্টির ২ প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,‘আপাতত লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেন এরপর লাঙ্গল সব নৌকায় তুলে নিয়ে আসব। কোনো চিন্তা নাই।’
সিলেট-১ আসনের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তিনি বলেন,‘ এই যে মোমিন সাহেব। আমি উনাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ।’ সিলেট-২ আসনের মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়াকে পরিচয় করানোর সময় তিনি বলেন, ‘যদিও তাঁর মার্কা লাঙ্গল তবুও আপনার তাকে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে দিবেন।’ সুনামগঞ্জ-২ আসনের নৌকার প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে আমাদের বৌদি। তাকে আমরা নমিনেশন দিয়েছি। আপনার তাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নির্ধারিত বক্তব্যর শেষ দিকে তিনি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ আমি তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিলাম। হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের প্রত্যেকটি অঞ্চলে আমার আবেদনটি পৌঁছে দেবেন যে আমি এসেছি নৌকার প্রার্থীদের জন্য। নৌকা মার্কায় ভোট চাই কারণ নৌকা মানে উন্নয়ন। আর ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অগ্নিসন্ত্রাস।’ নৌকায় ভোট চাওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ তাঁরা বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসা মানে দেশকে ধ্বংশকরে দেওয়া। দেশের সকল অর্জন নৎসাত করে দেয়া। তাই নৌকা মার্কায় আমরা ভোট চাই।’ সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ নৌকা মার্কার বিজয় হবে এবং এই নৌকা মার্কাই বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলবে।’
এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় উপস্থিত হবার পর শুরুর পরই বক্তব্য দেন সিলেট-১ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন সিলেট-২ (বিশ^নাথ, ওসমানীনগর) আসনের মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ইমরান আহমদ, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ, কানাইঘাট) আসনের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার, সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের প্রার্থী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
সভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের প্রার্থী শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের প্রার্থী এম এম শাহীন, মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের প্রার্থী নেসার আহমেদ, মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ): আসনের প্রার্থী আবদুস শহীদ।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) মো. আবু জাহির, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর, চুনারুঘাট) মাহবুব আলী।
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা) আসনের প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্তা, সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণসুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের প্রার্থী এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।