নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ মে, ২০২৫
সাবেক রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন তার ছেলে কৃষিবিদ ও ব্যারিস্টার রিয়াদ আহমেদ তুষার। তিনি জানিয়েছেন, তার বাবা দুই মিনিট দাঁড়িয়ে ও দুই ঘণ্টাও বসে থাকতে পারেন না, ওজন কমতে-কমতে এটা নেমে এসেছে ৫৪ কেজিতে।
সামাজিক মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক পোস্টে রিয়াদ আহমেদ তুষার লেখেন, এরকম একটা পোষ্ট দিবার জন্য দুঃখিত। ৮২-৮৩ বৎসরের একজন বয়স্ক লোক যিনি কিনা অসুস্থতার কারণে এখন ২ মিনিট দাড়িয়ে থাকতে পারছেন না, ২ ঘণ্টা বসে থাকতে পারছেন না বাধ্য হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েন। ওজন কমতে কমতে ৫৪ কেজিতে দাঁড়িয়েছে, যে কারণে নিজের কোন প্যান্ট পরতে পারছেন না; বাধ্য হয়েই লুঙ্গি পরে থাকতে হচ্ছে। যাকে বেটার চিকিৎসার জন্য ডাক্তারগণ বোর্ড করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য।
তুষার আরও লেখেন, যিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হবার পর প্রকাশ্যে বলেছেন যে উনি আর পলিটিক্সের সাথে জড়িত হবেন না এবং তারপর পলিটিক্সের সাথে কোনভাবে জড়িত হননি। আবার, যেখানে শত শত লোক বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা করাতে নিয়মিত থাইল্যান্ড যাচ্ছে সেখানে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য তিনি আসতেই পারেন। অথচ, এ ঘটনাটাকেই এত বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যা কল্পনাতীত। বানিয়ে মিথ্যা বলতে পারাটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে কিছু লোক। সকলেই দুয়া করবেন যেন তিনি সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে আসতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও লেখেন, আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি তবে আল্লাহর লানত আমার উপর পড়ুক। আর যারা মিথ্যা প্রচার করছে, তারা যদি তাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে তওবা না করে, তবে তাদের সবার উপর আল্লাহর লানত পড়ুক। আমিন ইয়া রাব্বুল আলামিন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে উন্নত চিকিৎসার জন্যে থাইল্যান্ড যান অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। তার বিদেশ গমনের পর এটা নিয়ে রজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর দুইদিনের আন্দোলনে সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে।
আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার মেয়াদ শেষে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর আবদুল হামিদ রাজধানীর নিকুঞ্জে তার বাসায় উঠেছিলেন। এরপর থেক তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি।
ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলি করার ঘটনায় কিশোরগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। গত ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ থানায় মামলাটি হয়।