Sylhet Today 24 PRINT

ড. ইউনূসের জন্য ১৮ মাস ধরে খালি সিসিইউ বেড, ‘বঞ্চিত’ সাধারণ রোগী

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৪ আগস্ট, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নথিকে কেন্দ্র করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিসিইউর একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড আঠারো মাস ধরে সংরক্ষিত রেখে সাধারণ মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে ফেসবুকে সরব হয়েছেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক ডা. আব্দুন নূর তুষার।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে বিএসএমএমইউ-এর কার্ডিওলজি বিভাগের একটি অফিস আদেশের কপি শেয়ার করে তিনি এই তথ্য জানান। মুহূর্তের মধ্যেই ডা. তুষারের এই অভিযোগ ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

শেয়ার করা বিএসএমএমইউ-এর ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবরের (স্মারক নং-বিএসএমএমইউ/ইউসিসি/কর্ডিওলজি/২০২৪/৩৮৯) ওই অফিস আদেশে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিএসএমএমইউ-এর কার্ডিওলজি বিভাগের ‘সিসিইউ-২, বেড-১’-এ সার্বক্ষণিক ভিভিআইপি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে অধ্যাপক ডা. মো. আবু সেলিমকে সভাপতি এবং ডা. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল জামালীকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ডা. খন্দকার কামরুজ্জামান, ডা. দীনে মুজাহীদ মো. ফারুরক ওসমানী এবং সিনিয়র ষ্টাফ নার্স রিপা রানী দেব।

অফিস আদেশ প্রকাশ করে ডা. আব্দুন নূর তুষার দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টার জন্য সিসিইউর মতো স্পর্শকাতর স্থানে একটি বেড আঠারো মাস ধরে খালি ফেলে রাখা হয়েছিল, যা কোনো সাধারণ রোগীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।

তিনি তার পোস্টে দাবি করে লেখেন, গড়ে যদি একজন রোগী এক সপ্তাহও সিসিইউর সেবা পেতেন, তবে আঠারো মাসে অন্তত ৭৮ জন মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পেতেন।

সিসিইউর ওই বেড আটকে রাখার কারণে অনেক জটিল রোগী সেবা না পেয়ে মারা গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। সিসিইউ ইনচার্জের রেজিস্ট্রার বুক পরীক্ষা করলেই ওই বেড খালি থাকার সত্যতা মিলবে বলে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক।

পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও লেখেন, সরকারের পক্ষ থেকে বাইরে সাধারণ ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি তুলে ধরা হলেও সিসিইউর বেড আটকে রেখে রোগীদের সেবাবঞ্চিত করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন চিকিৎসা পায়নি, তেমনি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সংকটকালে সিসিইউর মতো জায়গায় ভিভিআইপিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বেড সংরক্ষিত রাখা এবং জনস্বাস্থ্যের সার্বিক ক্ষতি নিয়ে ডা. তুষারের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্ত হয়। সরকারের বিলুপ্তির পরও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার জন্য এই ধরনের জরুরি মেডিকেল টিম ও অবকাঠামোগত বিশেষ ব্যবস্থা এখনও বহাল আছে কি না— সামাজিক মাধ্যমে সে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকেই।

তবে সামাজিক মাধ্যমে চলমান এই আলোচনার বিষয়ে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.