সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ আগস্ট, ২০২৬
বইয়ের প্রচ্ছদ পরিবর্তন করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে ভুয়া খবর বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাইকমিশন জানায়, হাইকমিশনার অর্থশাস্ত্রের একটি অনুলিপি উপহার প্রদান করেন, যেখানে “শিক্ষাই সর্বোত্তম বন্ধু। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি সর্বত্র সম্মানিত হন।” উদ্ধৃতিটি ছিল।
সংবাদকে বদলে ফেলার উদ্দেশ্যে বইটির প্রচ্ছদ পরিবর্তন না করার আহ্বানও জানিয়েছে হাইকমিশন।
হাইকমিশনের পোস্টে বলা হয়েছে- ‘ভুয়ো খবর বিষয়ক সতর্কতা: হাইকমিশনার অর্থশাস্ত্রের একটি অনুলিপি উপহার প্রদান করেন, যেখানে নিম্নলিখিত উদ্ধৃতিটি ছিল: “শিক্ষাই সর্বোত্তম বন্ধু। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি সর্বত্র সম্মানিত হন।সংবাদটিকে বদলে ফেলার উদ্দেশ্যে প্রচ্ছদটিকে বদলে ফেলবেন না!’
এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সেন্ট্রিস্ট নেশন টিভি (Centrist Nation TV) নামে একটি ফেসবুক পেইজ ও শাফকাত রাব্বী অনিক নামের আইডিতে অর্থমন্ত্রী মীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী একটি বই উপহারের ছবি শেয়ার করে। ওই ফেসবুক পেইজে তখন লেখা হয়: “প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই শত্রু আর শত্রুর শত্রু হলো বন্ধু” —অ্যামাজন ডটকম-এ বিক্রিত বইটির প্রচ্ছদে এমনটিই লেখা রয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনা, কৌশল ও কূটনীতি বিষয়ক প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ চাণক্যের ‘অর্থশাস্ত্র’-এর একটি কপি তুলে দেন। বইটি চাণক্যের ‘মন্ডল তত্ত্ব’ এবং এর বহুল পরিচিত নীতি— “প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই শত্রু আর শত্রুর শত্রু হলো বন্ধু”—এর সাথে ব্যাপকভাবে সম্পর্কিত।
সেন্ট্রিস্ট নেশন টিভি ও শাফকাত রাব্বী অনিক নামের ওই ফেসবুক পেইজের এমন পোস্টের পর ভারতীয় হাইকমিশন এই সতর্কবার্তা দিল।
এদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনের ওই পোস্টের পর শাফকাত রাব্বী অনিক ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন: আমার একটা লেখা ভারতীয় অ্যাম্বাসির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ এবং টুইটার ফিচার/পিন করে রেখেছে গত ৯ ঘন্টা ধরে এবং দাবি করছে আমি নাকি মিসলিডিং কথা বলেছি । আমি লিখেছিলাম যে তারা একটি বই দিয়েছে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে। ঢাকা থেকে আমাদের সাংবাদিক আমাকে এই বইয়ের আমাজন ডট কমের স্ক্রিনশট পাঠিয়েছে, যেখানে ক্লিয়ারলি বইয়ের মলাটে লেখা আছে “প্রতিবেশী রাষ্ট্র মানেই শত্রু, এবং শত্রুর শত্রু হচ্ছে বন্ধু”। যেহেতু পেপারে বই গিফট দেওয়ার যেই ছবিটি এসেছে সেখানে ক্লিয়ারলি বইয়ের মলাটের শব্দগুলো পড়ে বোঝা যাচ্ছিল না, আমরা সতর্কতার সাথে উল্লেখ করেছি যে অ্যামাজনে এই বইয়ের যেই ভার্সন বিক্রি হয় সেখানে কী লিখা আছে সেই ব্যাপারটা। আমি আমাজনের এই একই বইয়ের স্ক্রিনশট ক্লিয়ারলি দিয়েছি, লিংক দিয়েছি। এইটা মিসলিডিং কিংবা ফেইক নিউজ কীভাবে হলো ইন্ডিয়ান অ্যাম্বাসি? এইটা তো একটা সত্য কথা যেইটা প্রমাণ/ লিংকসহই দিয়েছি।
অনিক লেখন: আমরা জেনে খুশি হয়েছি যে এই বইয়ের আরও একটা মলাট নাকি আছে, যেইখানে কৌটিল্যের এই প্রব্লেমেটিক বাণীটি মলাটে লিখা নাই। খুবই ভালো কথা। কিন্তু আমরা তো খালি বলেছি সারা দুনিয়াতে এই বইটি কোন মলাটে বিক্রি হয় সেটার কথা, স্ক্রিনশটসহ। আমাদের মূল বক্তব্য ছিল এইধরনের একটা বই বাংলাদেশকে এই রকম একটা সংকটময় মুহূর্তে দেওয়ার কারণ কী হতে পারে, এইটা কিসের সিগন্যাল ইত্যাদি। আমি মর্মাহত জানতে পেরে যে আমাদেরকে একটা “ফেইক ফেইক নিউজ” এলার্টের মধ্যে ফেলা হয়েছে। চিন্তা করেন ব্যাপারটা আর একবার, “ফেইক ফেইক নিউজ এলার্ট”; ভাবা যায়?