Sylhet Today 24 PRINT

মেয়ে শামারূহ বললেন ‘ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞ’, শ্বশুরকে ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ বললেন ফাহাম

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২১ আগস্ট, ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) শপথ নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হতে যাচ্ছেন তিনি।

ফখরুলের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী- এমন একটি মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন তার মেয়ে শামারূহ মির্জা। আর সেই ছবির সঙ্গে মাত্র দুই শব্দের আবেগঘন বার্তা, ‘ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞ।’

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে এই ছবি পোস্ট করেন শামারূহ মির্জা। ছবিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল তুলে দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

কেবল মেয়ে শামারূহ মির্জাই নয়, জামাতা ফাহাম আবদুস সালাম থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।

শুক্রবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা পোস্টে ফাহাম আবদুস সালাম মির্জা ফখরুলকে ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এ সময় তিনি লিখেছেন, জীবনের ভালো-মন্দ- দুই সময়েই তিনি নেতাকে প্রথমে মনে করেন এবং নেতার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকেন।

পাঠকদের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ের জামাতা ফাহাম আবদুস সালামের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমি তাকে চিনি ২২ বছর - খুব কাছে থেকেই দেখেছি। আমি ওনার মতো রেস্পন্সেবল মানুষ জীবনে দেখেছি কেবল আরেকজন: আমার ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যারকে। যারা ছাদিক স্যারকে চেনেন - কেবল তারাই বুঝবেন এই বারটা কতটুকু ওপরে।

আলমগীর সাহেবের জীবনে মূলত একটাই রোল। একেক সময় একেকভাবে প্রতিভাত হয়েছে। কিন্তু রোল একটাই। সেটা দায়িত্বশীল বড় ছেলের। তিনি এমন একজন বড়ভাই যিনি ৭ ভাইবোনের জন্য ৬টা চকলেট পেলে নিজের ৬ ভাইবোনকে ৬টা চকলেট দিয়ে নিজে একটাও না নিয়ে খুব খুশি থাকবেন। ৬ ভাইবোনের জন্য তিনি যে দায়িত্বের সাথে সঠিক কাজটা খুব দ্রুত করে ফেললেন - এটাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা। এই রোল থেকে তিনি কখনোই বের হতে পারেন না। আবহমান বাংলাদেশের পরিবারের বড় ছেলে - যার কাঁধে অনেক দায়িত্ব।

একটা ওল্ড ওয়ার্ল্ড ভ্যালু বিশেষ করে আমেরিকায় ও ক্রিশ্চান পৃথিবীতে ভীষণ জনপ্রিয় ও কার্যকর। মেইক ইয়োর সেলফ ইউজফুল। এই গুণটা ওনার মধ্যে প্রকট বললে কম বলা হবে। একেবারেই বসে থাকতে পারেন না। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে কাজে লাগাতে চান। ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া শুরু করে দেন। কারণ তিনি বসে থাকতে পারেন না। আমার মনে হয় ওনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এই গুণটা ও তার ভদ্র আচরণ।

৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে উনি একদিন ম্যান টু ম্যান একা আমাকে বলছিলেন যে, আমার জীবনের কাজ হয়ে গেছে। ম্যাডামকে বের করে আনছি। আর ইলেকশন হলে দেশটাও গণতন্ত্রে উঠে যাবে। আই এম স্যাটিসফায়েড। বহুবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন যে, ম্যাডামকে বের করতে না পারা তার নিজের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতাকে তিনি পার্সোনালি নিতেন। আমাদের পরিবারে ম্যাডামের অবস্থান কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মতো না। নন-পলিটিকাল পরিবারের কাউকে বোঝানো কঠিন যে, ম্যাডামের মর্তবাটা ঠিক কেমন। সেদিন আমার মনে হয়েছিল যে ম্যাডাম খুবই সৌভাগ্যবান একজন নেতা। বাংলাদেশে কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মির্জা আলমগীরের মতো সাহাবি পাওয়া কঠিন যে নিজের ভালো ও খারাপ- দুই সময়ই লিডারকে প্রথমে মনে করে এবং লিডারের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছে। আমি নিশ্চিত না যে, তারেক রহমান এরকম একজন সাহাবি পাবেন। কেন যেন শিক্ষিত লোকেরা শুধুই বেইমানি ও নিজের স্বার্থ দেখে।

বিএনপির অনেক তরুণ নেতাকর্মী মির্জা আলমগীরকে বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন। এই কথাটার মাঝে একটা সত্যতা আছে। তিনি আসলেই বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান। তার দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে কিন্তু তিনি আসলেই যা বলেন- সেটাই বিশ্বাস করেন এবং সেটাই প্র্যাকটিস করতে চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ কিংবা উঁচুদরের ডেমোক্রেসি চর্চা করা সম্ভব না কারণ আমাদের সোসাইটি এখনো গণতন্ত্রের জন্য প্রস্তুত না। কিন্তু তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সারাজীবন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের গাড়িতে ঠেলা দিতে হলে তিনি সবার আগে দাঁড়িয়ে যাবেন।

ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা আমার জন্য একই সাথে আনন্দের ও হতাশার। আনন্দের এজন্যে যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য এমন একজন মানুষ দরকার যাকে জাতি অভিভাবক হিসাবে দেখতে রাজি। আমার মনে হয় সঠিক মানুষটাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। আর হতাশার এ কারণে যে বিএনপিতে এরকম একজন মানুষের খুব দরকার যে নিজের আগে দলের ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন। এমন একজন মানুষের রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাছাড়া বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে দম বন্ধ হয়ে আসার কথা।

বহু মানুষ এমন কি আওয়ামী লীগের সাপোর্টাররাও আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বহু মানুষ ভীষণ খুশি। আমার জীবদ্দশায় আর কোনো মেজর পলিটিকাল লিডার এরকম জেনুয়িন বাইপার্টিজান সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে হয় না। উনি কোনো মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ নন। খুব বেশি অর্থ-বিত্তেরও অধিকারী নন। তার কোনো গ্রুপিং নেই বিএনপিতে। যারা মনে করেন পলিটিকসে সৎ ও ভালো লোকের কোনো খানা নাই- শাকিব খানের মতো করে তাদের একটা কথাই শুধু বলব। ইউ আর রং - টোটালি রং।

জায়গা আছে। আপনাদের দম রাখতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.