সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের দিনে তাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক জীবনে তার সহযোগিতা এবং পিতার মৃত্যুর পর পাওয়া অভিভাবকসুলভ স্নেহের কথা তুলে ধরেন।
রিয়াসাদ আজিম লেখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বশেষ সিলেট সফরে এলে কয়েক দিন তাঁর সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়েছিল। সফরের শেষ দিন আম্বরখানায় যানজটে গাড়ি আটকে থাকা অবস্থায় তিনি মির্জা ফখরুলের ছবি তুলতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘ছবি দিয়ে কী হবে রে ব্যাটা?’
এর জবাবে রিয়াসাদ আজিম তাঁকে বলেছিলেন, সেদিনই শেষবারের মতো তাঁকে এভাবে পাশে বসিয়ে সিলেট ঘোরার সুযোগ হচ্ছে। পরেরবার তিনি যখন আসবেন, তখন ‘মহামান্য’ হয়ে আসবেন এবং দূর থেকে তাঁকে দেখে হাত নাড়তে হবে। এ কথা শুনে মির্জা ফখরুল তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হেসে উঠেছিলেন বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন তিনি।
রিয়াসাদ আজিম আরও লেখেন, তাঁর সঙ্গে মির্জা ফখরুলের পরিচয় নতুন নয়। বাবার হাত ধরে তিনি প্রথম মির্জা ফখরুলের উত্তরার বাসায় গিয়েছিলেন। প্রথম দেখাতেই তাঁর ভদ্রতা ও বিনয় তাঁকে মুগ্ধ করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাবার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে অনেকটা অভিভাবকহীন মনে হওয়ার কথাও লেখেন রিয়াসাদ আজিম। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনের নানা কঠিন সময়ে মির্জা ফখরুল পাশে ছিলেন এবং বিভিন্নভাবে সাহস জুগিয়েছেন।
‘আমরা তো বেঁচে আছি’—মির্জা ফখরুলের এমন ছোট্ট একটি কথা কিংবা কাঁধে রাখা স্নেহের হাত তাঁকে কঠিন সময়ে সাহস জুগিয়েছে বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন তিনি।
রিয়াসাদ আজিম বলেন, বাবার শূন্যস্থান কেউ পূরণ করতে পারে না। তবে পিতৃহারা একজন মানুষের জীবনে কিছু মানুষকে আল্লাহ অভিভাবকের মতো রেখে দেন—মির্জা ফখরুল তাঁর জীবনে তেমনই একজন।
শেষে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তোলা সেই ছবির প্রসঙ্গ টেনে রিয়াসাদ আজিম লেখেন, ছবিটি তাঁর কাছে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে। একদিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল তাঁর পাশে একজন আপন মানুষ হয়ে বসেছিলেন—ছবিটি তাঁকে সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেবে।