নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত বিতর্কিত তরুণ ‘আয়াস’ ওরফে উজ্জ্বলের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, চুনকালি কেনার টাকা থেকে শুরু করে বিতর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অর্থ ও পরামর্শ জুগিয়েছেন ওই আইনজীবী।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই তথ্য দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গ্রেপ্তারকৃত আয়াসের প্রকৃত নাম উজ্জ্বল এবং তার বাড়ি ময়মনসিংহে। ঢাকায় এসে নিজের নাম, চুলের স্টাইল ও চেহারা পরিবর্তন করে সে নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা আয়াশ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
তিনি আরও জানান, আয়াস ওরফে উজ্জ্বল এর আগেও প্রতারণার একাধিক মামলায় জেল খেটেছে এবং সেই মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, আদালতে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে আয়াস চিৎকার করে তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করে ভেতরের সব তথ্য ও চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেলার আকুতি জানায়। প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, "তার হোয়াটসঅ্যাপে কী এমন তথ্য আছে যা সে দ্রুত মুছে ফেলতে চায়?"
তিনি দাবি করেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার জন্য চুনকালি কেনার অর্থ জুগিয়েছিলেন জামায়াতের আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। শুধু তা-ই নয়, জুলাই আন্দোলনের নামে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কিত সংগঠন এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পেছনে অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগও রয়েছে এই ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে। শাহরিয়ার কবিরকে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা থেকে বাঁচাতেই আয়াশ প্রিজন ভ্যান থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপ তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি—এমন যুক্তি তুলে ধরে বাংলাদেশ না চাওয়া জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং তারা সরাসরি আয়াসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র নীতি-নির্ধারকদের মনে কষ্ট থাকলেও তারা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে প্রকাশ্যে আয়াসের পাশে দাঁড়াতে পারছে না।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের এই ঘটনা এবং আয়াসের আসল পরিচয় উন্মোচনের পর ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আয়াশসহ চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা এখন রিমান্ডে রয়েছেন।