সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ নভেম্বর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার কপি ছিঁড়ছেন এমন একটা পোস্ট করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে তিনি ওই ভিডিও পোস্টের শিরোনাম দেন '১৫ দিনের মধ্যে ২টা বিভ্রান্তিকর লিড নিউজ এর নেপথ্যে জামায়াতের ফান্ডিং?' তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, এইটাকে (দৈনিক আমার দেশ) আসলে কোনো পত্রিকা বলা যায় না। আমার দেশ পত্রিকা আমাকে নিয়ে দুইটা লিড নিউজ করেছে। গত ১৫ অক্টোবর। আমার দেশ পত্রিকার লিড নিউজ ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন?’ এখাঁন মোটামুটি সবার সম্পর্কেই তুলে ধরা হয়েছে। তবে আমি এই সংবাদ পড়তে গিয়ে যেটি বুঝলাম, আমাকে নিয়ে দুই লাইন লিখে খোঁচা মারার উদ্দেশ্যেই এই পত্রিকায় লিড নিউজ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পত্রিকার পঞ্চম পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশেদ খাঁন বিভিন্ন টিভি টকশোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের পক্ষে বয়ান তৈরিতে সরব ভূমিকা পালন করেন। তার কিছু কিছু বক্তব্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ, এই এক লাইন আমার সম্পর্কে লেখার জন্য আমার দেশ পত্রিকার অনেক কালি খরচ করতে হয়েছে। শুধুমাত্র আমাকে নিয়ে তো লিড নিউজ করা যায় না। সুতরাং ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সহকারীরা কী করছেন?’ এই শিরোনামে তারা একটি প্রকাশ করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আমার দেশ-এ ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দেখেন, আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি। একই পত্রিকা কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধরনের কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে পারে না। একমাত্র আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পক্ষেই সম্ভব এ ধরনের মন্তব্য করা।
তিনি বলেন, জামায়াতের মিথ্যাচার, বিশেষ করে জামায়াতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং এই বিষয়টি আমি সামনে এনেছি। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছি। জামায়াত আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি। কারণ, যখনই আমার চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করবে, তখন আমার কাছে যে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, সেগুলো তো আমি সবাইকে শেয়ার করব। যে কারণে হয়ত তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুব বেশি কথা বলতে চায় না।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমি সেই সময় উল্লেখ করেছিলাম, মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে না থাকেন এবং তাতে যদি তাদের মানহানি হয়ে থাকে, তবে তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। আমি এও বলেছিলাম, জামায়াত দলগতভাবে যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সঠিকভাবে তদন্তের স্বার্থে আমার কাছ থেকে তথ্য নিতে চায়, তবে আমি তাদের সহযোগিতা করব। এমনকি আমি এ কথাও বলেছি, তদন্ত কমিটি গঠন না করে জামায়াতের আমির যদি বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, আমিও তার সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে রাজি আছি। কিন্তু জামায়াত আমার কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি নয়। কারণ, এই বৈঠক হওয়ার বিষয়টি শতভাগ সত্য। জামায়াত যদি আমার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং প্রমাণ করতে পারে যে আমি মিথ্যাচার করেছি, তবে এ দেশের জনগণ আমাকে যে শাস্তি দেবে, আমি তা মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।
তিনি আরও বলেন, আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে না পেরে, আমার বক্তব্যের সঠিক জবাব দিতে না পেরে, একের পর এক এই যে জামায়াতের দেশ, এটাকে আমি আর আমার দেশ বলতে চাই না। এই জামায়াতের দেশ পত্রিকায় আমার সম্পর্কে লিড নিউজ করে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। এখাঁন শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে আমি ২০১৮ সালে জেল খেটেছিলাম। আমি টানা ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। অতিরিক্ত আরও তিন দিন আমাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
‘হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার ছবি যুক্ত করে আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, এই মজলুম সাংবাদিক বা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল। তিনিও আওয়ামী লীগের সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি একজন মজলুম হয়ে যে রাশেদ খাঁন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হলো, মজলুম হলো, তাকে নিয়ে এইভাবে ট্যাগিং করা অন্তত মাহমুদুর রহমানের আমার দেশ পত্রিকার সঙ্গে যায় না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জামায়াতের প্রতিবাদ
এদিকে, ফেসবুকে ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনর পত্রিকা ছিঁড়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই ঘটনাকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দলীয় এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক সহকারী লাইভ অনুষ্ঠানে এসে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ ছিঁড়ে ফেলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিক ছিঁড়ে ফেলা শুধু একটি পত্রিকার প্রতি অবমাননা নয়, বরং এটি বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
তিনি বলেন, একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার অর্থ শুধু একটি পত্রিকাই ছিঁড়ে ফেলা নয়, বরং আমরা মনে করি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং মিডিয়াকে বন্ধ বা তালাবদ্ধ করে দেওয়ার পূর্ব আলামত। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী ও কলাকুশলীদের মাঝে এই আশঙ্কা তৈরি করবে যে, বাংলাদেশে আবার সরকারের হস্তক্ষেপে সংবাদপত্র বন্ধের সংস্কৃতি চালু হবে কিনা?
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং সংবাদপত্রের প্রতি তার এই অগণতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, যেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োজিত- এজন্য তার এই কাজের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা, জনগণ তা জানতে চায়।