হোসাইন ইমরান, শাবি

২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ০০:৫৫

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অচল শাকসু

নির্বাচন চায় শিক্ষার্থীরা

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অচল রয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু)। নির্বাচনের মাধ্যমে অচল শাকসুকে পুনরায় সচল করার দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের প্রেক্ষিতে শাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা উঠছে বেশ জোরেশোরেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মুখে রব উঠেছে শাকসুর নির্বাচন নিয়ে। এরমধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে শাকসু নির্বাচনের দাবি।

শাকসু’র নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, শাকসু’র প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৯৩ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট ৫বার শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ২৫ আগস্ট এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২১ বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় অচল হয়ে আছে শাকসু।

২১ বছর ধরে শাকসু নির্বাচন না হলেও প্রতি সেমিস্টারে নির্দিষ্ট হারে ফি দিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার দপ্তরসূত্রে জানা যায়, শাকসু’র জন্য ২০০০ সালে নির্ধারিত ফি ছিল ৩৭ টাকা। বিগত দুই দশকে ৮ দফায় সেই ফি বাড়িয়ে ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের গুণতে হচ্ছে ১০০ টাকা করে।

শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউনিয়নি ফি বাবদ জমা হওয়া সেই টাকা কোন কাজে ব্যয় করছে বিশ্বদ্যিালয় প্রশাসন?

এমনই প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার ও প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন ফি বাবদ যে অর্থ নেওয়া হয় তার জন্য আলাদা তহবিল গঠন করা আছে। সেই তহবিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পালিত বিভিন্ন দিবসগুলোতে গঠিত কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হয়। এছাড়া এই তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণেও ব্যয় করা হয়ে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম হচ্ছে শাকসু। সেই শাকসু’র নির্বাচন এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কুতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শাবি শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রুহুল আমিন বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শাকসু নির্বাচনের আয়োজন করুক। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা মেনে স্বতস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে সহযোগিতার পাশাপাশি অংশগ্রহণ করবো।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এম এ রাকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শাকসু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের যে শর্তাবলী আছে তা সংস্কারের সাথে সাথে ছাত্র সংগঠনগুলোর ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশও তৈরি করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বসলে আমরা আমাদের কথাগুলো তুলবো। আমরাও চাই সুষ্ঠভাবে শাকসু নির্বাচন হোক।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রুদ্র বলেন, শাকসু নির্বাচনের আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে। যেমন-ডাটাবেজ তৈরি, তথ্য হালনাগাদ, কারা প্রার্থী হতে পারবে, কারা ভোট দিতে পারবে, ভোট কেন্দ্র কোথায় হবে ইত্যাদি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে কাজ করতে হবে। এসব প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত।

ছাত্রদের এই প্ল্যাটফর্মের নিয়মিত নির্বাচনের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম সাইফুল ইসলামও।

তিনি বলেন, নেতৃত্বের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলা, বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা, সেই দাবি আদায় করার জন্য শাকসু নির্বাচন দরকার। আমরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় খুব বেশি বড় নয়। এখানে নির্বাচনের আয়োজন করতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

তিনি বলেন, সবাই তাকিয়ে আছে ডাকসু নির্বাচনের দিকে। ডাকসু নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হলে তারপর আমরা শাকসু নির্বাচন নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ছাত্রসংগঠনগুলোর সাথে কথা বলে আমরা অচিরেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত