সিলেটটুডে ডেস্ক

৩১ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:৩৫

৩৫তম স্প্যানে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর সোয়া ৫ হাজার মিটার

পদ্মা সেতুর ৩৫তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুটির মোট ৫ হাজার ২৫০ মিটার দৃশ্যমান হল। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান ২-বি বসানো হয়।

মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিকাল পৌনে তিনটার দিকে ৩৫তম স্প্যান বসানো সম্পূর্ণ হয়েছে। পরবর্তী স্প্যান বসানো হবে নভেম্বরের ৪ অথবা ৫ তারিখ।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ২-বি স্প্যান নিয়ে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার কুমারভোগে অবস্থিত কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই রওনা দেয়। সকাল থেকে প্রকৌশলীদের চেষ্টার পর সফলভাবে স্প্যান বসানো সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন

নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, শুক্রবার স্প্যানটি বসানোর কথা ছিল। কিন্তু, পদ্মা নদীতে চর পড়ে নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়। যেখানে বর্ষা মৌসুমে পানি ছিল ১৩০ ফুট থেকে ১৫০ ফুট সেখানে পানি কমে হয়ে গেছে মাত্র ৭ ফুট। তাই গত দুই দিন ড্রেজিং করে নাব্য ফেরানো হয়েছে। যে ক্রেনটি কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যান বহন করে পিয়ারের কাছে নিয়ে যায় সেটি চলতে কমপক্ষে ১২ ফুট গভীর পানি লাগে।

জানা গেছে, ৩৫তম স্প্যান বসানোর পর বাকি থাকলো মাত্র ছয়টি স্প্যান। কারণ, সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে।

প্রকৌশলীরা জানান, বর্ষার কারণে বিগত চার মাস বন্ধ থাকার পর অক্টোবর মাসে পুনরায় স্প্যান বসানোর কাজে গতি আসে। এ মাসে চারটি স্প্যান বসানো হলো। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবরে বসানো হয় ৩৪তম স্প্যান। পরিকল্পনা আছে ডিসেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে বাকি স্প্যান ছয়টি বসানো হবে।

বিজ্ঞাপন

কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে দ্বিতল ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এবং ২০২১ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন অতিরিক্ত আরো সময় লাগতে পারে। আগামী ডিসেম্বরে স্প্যান বসানো শেষ হলেও স্ল্যাব বসানো, গ্যাস সংযোগ, রেল লাইন সংযোগের কাজসহ আরও কাজ বাকি। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে রেলের কিছু স্টিল বার পানিতে তলিয়ে গেছে। হয় সেগুলো তুলতে হবে, না হয় নতুন করে আনতে হবে। এ সকল কারণে সেতুর কাজ শেষ হতে কিছুদিন সময় বেশি লাগবে।

মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আব্দুল মোমেন লিমিটেড।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত