সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৫৩

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী: আমির হামজা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদের জুম্মার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এ সময় এমপি আমির হামজা বলেন, এখন জ্বালানী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটা নাস্তিক এবং ইসলাম বিদ্বেষী। আপনি যদি বলেন জামায়াত ইসলামী বিদ্বেষী, চরমোনাই পীরের বিদ্বেষী! না, উনি ইসলাম বিদ্বেষী। উনার বক্তব্য কালকে দেখেছেন? এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে কেন আপনি বলেন তো? মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছে, আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন তারা ইসলাম বিদ্বেষী কি না। তারা ধর্ম বিদ্বেষী কি না।

আমির হামজা বলেন, এর আগে তারেক রহমানের যে সমস্ত নামগুলো বাংলাদেশ ছড়ানো, বিশ্বের মানুষ জানে উনারে খাম্বা বলে ডাকে উনার কারণে না। এই টুকুর কারণে। উনারে যে খাম্বা বলে ডাকা হয় কারণ এই টুকুর কারণে। এই জায়গাটায় এর আগেও উনি মন্ত্রী ছিল।

আমির হামজা আরও বলেন, উনি এ সমস্ত জায়গাগুলোতে দায়িত্ব পেলে কি হয় হাহাকার লাগে আপনি এখন এই যে মজমপুরের তেল পাম্পে যান, বিআরবি কেবলের তেল পাম্পে যান, মণ্ডল ফিলিং স্টেশনে যান। কি অবস্থা দেখেনতো কি হাহাকার চলছে।

আমির হামজা বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম ৫ লিটারের বেশি তেল দেয় না জেনেরেটর চালাতে। কত মানুষের জীবন বিপন্ন এখন আপনি টের পাচ্ছেন। এ সমস্ত অযোগ্য মানুষগুলোকে না দিয়ে যারা যোগ্যতা সম্পন্ন, যারা দেশের মানুষের প্রতি দরদ রাখে এরকম মানুষকে যদি সিরিয়াল আকারে বসানো যেত এ হাহাকারটা লাগতো না। এর আগেই তো সে পরীক্ষিত ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস বলেন, “এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন।

“মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।’

এদিকে মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন ৩ দিনে ৫০ লাখ টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাঁকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

হামজার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল আলম টুকু বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর ভিত্তি করে। ধর্ম বর্ন জাতি গোষ্ঠীর উর্ধ্বে উঠে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

“উনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কি পাকিস্তান ইসলাম বিদ্বেষী ছিল? যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করেছিল?”

তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়নি, এখানে সকল ধর্মের মানুষ সেদিন দেশকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমির হামজা তো কার্যত এখন আর ইসলামী বক্তা নন, উনি রাজনৈতিক নেতাও। আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক বক্তাই এ জাতীয় কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ওসব কিছু আমরা এখন আর গায়ে মাখি না।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত