সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১৮

হুড়োহুড়িতে আদালতের সিঁড়িতে পড়ে গেলেন শিরীন শারমিন

আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে যানন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও পড়ে যান। ৬০ বছর বয়সি শিরীন ব্যথায় চিৎকার দেওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত টেনে তুলেন পুলিশ সদস্যরাই।

জুলাই আন্দোলনের সময় আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় মঙ্গলবার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচের পর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের সিঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এদিনই ভোরে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার করেন ডিবি পুলিশ।

দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহসীন উদ্দীন তার দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। তখন সেই কক্ষটি কানায় কানায় ভরে যায়।

কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান শিরীন শারমিন। এসময় কয়েকজন আইনজীবী তাকে সালাম দেন। হাত উঁচিয়ে সালামের উত্তর দেন শিরীন শারমিন। মিনিটখানেক পর বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন উপকারভোগী। এ মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি। এতোদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, এ মামলার ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত ও আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।

শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী ইবনুল কাওসার ও এ বি এম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

ইবনুল কাওসার বলেন, “এ মামলায় ১৩০ জন আসামি, যার মধ্যে শিরীন শারমিন ৩ নম্বর আসামি। মামলায় শুধু তার নামটাই রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনার ১০ মাস পর এ মামলা করা হয়েছে।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।

আইনজীবী কাওসার বলেন, “শিরীন শারমিন চৌধুরী সরাসরি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর কাউকে কিন্তু এমনটা করতে দেখা যায়নি। বাদীর গুলি লেগেছে। তার জন্য আমাদের সহানুভূতি আছে।

“কিন্তু তিনি তো সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি রানিং স্পিকার। তার যেতে হলে তো প্রোটোকল নিয়ে যেতে হবে। এ ধরনের মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।”

সাবেক স্পিকার শিরীন অসুস্থ, বয়ষ্ক মানুষ জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “দীর্ঘদিন পলাতক থাকলে শরীরের যা হয়। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”

আসামি পক্ষের আরেক আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেজবাহ বলেন, “যখন কেউ স্পিকার হিসেবে শপথ নেন, তখন আর দলীয় কোনো পদ থাকে না। তিনি নিউট্রাল হয়ে যান। ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

শুনানি নিয়ে আদালত তার রিমান্ড আবেদন ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে আবার সিএমএম আদালতে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এসময় আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবী ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শিরীন শারমিনকে তাড়াহুড়ো করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে যান তিনি।

এদিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত